নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:- প্রথম দিন থেকেই তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর পর্ব নিয়ে একের পর এক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এবার সোজা সুপ্রিম কোর্টে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের সিইও দফতরের মামলা দায়ের করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে, এসআইআর পর্ব নিয়ে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে যায় এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক পত্রবোমা। কথা ছিল এদিন দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মমতার বৈঠকের। কিন্তু তারই আগে, সুপ্রিম কোর্টে মমতা মামলা দায়ের করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহেই হবে।
এদিন বৈঠক শুরুর কিছু সময় পরেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এলেন 'অপমানিত' মমতা। কমিশনকে 'মিথ্যাবাদী' তকমা দিয়ে এবার বয়কটের ডাক দিলেন তিনি। তাহলে কি দিল্লির মাটিতেই আরও বড় আন্দোলন শুরু করবেন মমতা? আগামী কাল, মঙ্গলবার থেকে কোন পদক্ষেপ করবেন মুখ্যমন্ত্রী? তুঙ্গে দিল্লির রাজনৈতিক জল্পনা।
এদিন বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে বৈঠকে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রতিনিধি দল। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে এদিনের বৈঠক ছিল। সেখানেই কমিশনের আচরণ, বক্তব্যে 'অপমানিত' হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক ছেড়ে তিনি বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সামনে চরম ক্ষোভ উগড়ে দেন। এরপর কী কর্মসূচি হবে নেত্রীর? সেই প্রশ্নের জবাবে, আগামী কালের অপেক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এসআইআর আতঙ্কে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের অনেককেই দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনে তাঁরা রয়েছেন। তাহলে কি তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী?
জানা গিয়েছে, এদিনই এসআইআর ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসবেন। মনে করা হচ্ছে সেখানেই আন্দোলনের রূপরেখা রাতেই তৈরি হয়ে যাবে। আগামী কাল, মঙ্গলবার তৃণমূলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের অভিষেকের দিল্লির বাড়িতে বৈঠক ডেকেছেন মমতা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টেও এসআইআর ইস্যুতে মামলার শুনানি হবে বলে খবর। এদিন মমতার সিইসিকে "বয়কট করলাম" বলেন সাংবাদিকদের সামনে।
উল্লেখ্য, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাগোড়া প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে, সেই অভিযোগও করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ছটি চিঠি লিখেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু একটি চিঠিরও জবাব কমিশনের তরফে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি কমিশন! এদিকে এসআইআর আবহে বাংলায় মৃত্যুমিছিল চলছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বাংলায় ১৪০ জন এসআইআর আতঙ্কে মারা গিয়েছেন। এত মৃত্যুর দায় কে নেবে? দিল্লিতে গিয়ে আরও একবার সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

