নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া: প্রেম নিয়ে কথা বললেই সমাজ যেন অস্বস্তিতে পড়ে। বিশেষ করে সেই প্রেম যদি প্রচলিত ছকের বাইরে যায়, তাহলে বিতর্ক অবশ্যম্ভাবী। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রশ্নটা আসলে একাধিক প্রেম নিয়ে নয়, প্রশ্নটা সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে।
একদিকে আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলি, অন্যদিকে কোনও পরিচিত মুখ প্রেম নিয়ে নিজের মত জানালেই নৈতিকতার লাঠি উঁচিয়ে ধরা হয়। স্বস্তিকার বক্তব্য সেই ভণ্ডামির দিকেই আঙুল তোলে। প্রেম কি আদৌ সমাজের অনুমোদনের বিষয়? নাকি তা একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি—যার হিসেব দেওয়ার দায় কারও নেই?
এই বিতর্কে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হল—আমরা প্রেমকে ভালোবাসি গল্পে, সিনেমায়, গানে। কিন্তু বাস্তব জীবনে প্রেম যখন স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে, তখনই তা হয়ে যায় আপত্তিকর। একাধিক সম্পর্কের ধারণা আমাদের সামাজিক কাঠামোয় এখনও অস্বস্তির কারণ, আর সেই অস্বস্তিকেই আমরা নৈতিকতার মোড়কে ঢেকে দিই।
স্বস্তিকার সোশাল মিডিয়া পোস্টে উঠে আসা অলি পাব, খাদ্যাভ্যাস কিংবা সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রসঙ্গ আসলে প্রসঙ্গান্তর নয়। এগুলি একই সূত্রে গাঁথা—সমাজের মনোযোগ কোন দিকে ব্যয় হচ্ছে, আর কোন প্রশ্নগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার দৃষ্টান্ত। হাতে সময় থাকলে প্রেম নয়, আমরা বরং বিতর্ক খুঁজি। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে বারবার থাকে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন।
এই মুহূর্তে প্রশ্নটা স্বস্তিকা কী বললেন, তা নয়। প্রশ্নটা হল—আমরা কেন এত আগ্রহ নিয়ে ঠিক করে দিতে চাই, কে কাকে ভালোবাসবে, কীভাবে ভালোবাসবে এবং কতজনকে ভালোবাসবে? প্রেম কি সত্যিই এত ভয়ংকর, নাকি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাসনাটাই বেশি বিপজ্জনক?
এই বিতর্ক আমাদের আরেকবার ভাবতে বাধ্য করে—ভালো থাকার দায়িত্ব কার? সোশাল মিডিয়ার আদালতে দাঁড়িয়ে রায় দেওয়াই কি আমাদের প্রধান কাজ, নাকি নিজের জীবনের দিকেও একবার তাকানো জরুরি? প্রেমের সংখ্যার হিসেব না কষে, হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই এখন বেশি প্রয়োজন।

