নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: আজকের ব্যস্ত জীবনে চুল পড়া, রুক্ষ ত্বক, ব্রণ বা অকাল বার্ধক্য—এই সমস্যাগুলি প্রায় ঘরে ঘরে। কেমিক্যালভিত্তিক পণ্যের বদলে এখন অনেকেই ভরসা রাখছেন প্রাকৃতিক উপাদানের উপর। সেই তালিকায় অন্যতম নাম রোজমেরি তেল। চুল ও ত্বকের যত্নে এই তেল যে কার্যত ‘মাল্টিটাস্কার’, তা জানলে অবাক হবেন অনেকেই।
নিয়মিত ব্যবহারে রোজমেরি তেল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং ত্বককে করে তোলে মসৃণ ও প্রাণবন্ত। তাই যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চুল বা ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের দৈনন্দিন রুটিনে রোজমেরি তেল যোগ করাই এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।
ত্বকের জন্য রোজমেরি তেলের উপকারিতা :- রোজমেরি তেল ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বক টানটান ও সতেজ থাকে। ত্বকের দাগছোপ, ব্রণ কিংবা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা কমাতে এই তেল কার্যকর ভূমিকা নেয়।
এই তেলে থাকা ভিটামিন A ও C ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেরি করে।
স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা রোজমেরি তেল মিশিয়ে নিলে শরীর ও মন দুটোই হালকা লাগে। আবার ঘরোয়া ফেসপ্যাকের সঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা বজায় থাকে।
চুলের জন্য রোজমেরি তেলের উপকারিতা :- চুলের যত্নে রোজমেরি তেল কার্যত ম্যাজিকের মতো কাজ করে। চুল পড়ার অন্যতম কারণ ডিএইচটি (DHT) হরমোন। রোজমেরি তেল এই হরমোনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, ফলে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
এই তেল চুলের গোড়া শক্ত করে, আগা ফাটা কমায় এবং চুলকে করে তোলে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
রোজমেরি তেল ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি :- রোজমেরি তেল কখনও সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিতে হবে।
মাথার ত্বকে আলতোভাবে ১০–১৫ মিনিট মালিশ করুন। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ২–৩ দিন নিয়মিত ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। ত্বক বা চুলের গুরুতর সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

