নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া: বিশ্বকাপ মানেই শুধু ক্রিকেট নয়। এটি আবেগ, উত্তেজনা আর প্রতিযোগিতার এক আন্তর্জাতিক উৎসব। কোটি কোটি মানুষ এই মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকেন শুধু খেলার জন্য নয়, সেই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার রোমাঞ্চ উপভোগ করার আশায়। ঠিক সেই জায়গাতেই যখন কোনও দল আগেভাগেই জানিয়ে দেয় যে তারা একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ খেলবে না, তখন বিষয়টি আর ক্রীড়াক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বরাবরই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ, সম্প্রচার সংস্থার আগ্রহ এবং টুর্নামেন্টের উত্তেজনা—সবকিছুই এই ম্যাচকে ঘিরে আবর্তিত হয়। সেই ম্যাচ না হওয়া মানে শুধু দর্শকদের বঞ্চনা নয়, প্রশ্ন উঠে যায় প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিয়েও। অখেলেই যদি একটি দল দুই পয়েন্ট পেয়ে যায়, তবে গোটা টুর্নামেন্টের ভারসাম্য যে নড়বড়ে হয়ে পড়ে, তা অস্বীকার করা কঠিন।
এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের দিকেও তাকাতে বাধ্য করে। যদি ভারত ও পাকিস্তান নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়, তখন কী হবে? সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো ম্যাচ বয়কট করা মানে কেবল একটি হার নয়—তা কার্যত বিশ্বকাপ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সমান। তখন প্রশ্ন ওঠে, ক্রিকেটের ফলাফল কি মাঠে ঠিক হবে, নাকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলবে?
এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ বয়কট মানে শুধু একটি খেলা বাতিল হওয়া নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চুক্তিভঙ্গ, আর্থিক ক্ষতি এবং বিশ্বকাপের বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলিও রাজনৈতিক অজুহাতে একই পথ বেছে নিতে পারে। সেটাই হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
পাকিস্তানের আইসিসির কিছু সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকতেই পারে—সে অধিতার তাদের আছে। কিন্তু সেই অসন্তোষ যদি সরাসরি মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলে, তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় খেলাটাই। বিশ্বকাপ কোনও কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার জায়গা নয়; এটি হওয়া উচিত প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার উৎসব।
ক্রিকেট বহুবার ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের প্রতিফলন হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিফলনে যদি প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা হারিয়ে যায়, তবে ক্ষতি হবে অপূরণীয়। বিশ্বকাপ হওয়া উচিত ব্যাট আর বলের লড়াইয়ের মঞ্চ—বিবৃতি, বয়কট বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নয়।
পাকিস্তানের এই অবস্থান তাই একটি ম্যাচের চেয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়—আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কি ধীরে ধীরে রাজনীতির চাপে তার নিজস্বতা হারাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখনই জরুরি। নচেৎ বিশ্বকাপ থাকবে, আয়োজন থাকবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল আত্মা।

