নিজস্ব প্রতিনিধি ,নিউজ ইন্ডিয়া: মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই শুধু একটি পরীক্ষা নয়—এটি লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার জীবনের প্রথম বড় মানসিক লড়াই। এই সময়ে প্রশ্নপত্রের থেকেও বড় হয়ে ওঠে দেরি হয়ে যাওয়ার ভয়, রাস্তায় আটকে পড়ার আতঙ্ক কিংবা হঠাৎ কোনও বিপদে পড়ার শঙ্কা। ঠিক এই জায়গাতেই এবছর একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রাজ্য প্রশাসন।
কলকাতা পুলিশের তরফে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা, অতিরিক্ত পুলিশি সহায়তার ব্যবস্থা, রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন—সব মিলিয়ে প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট। পরীক্ষা দেওয়াই পরীক্ষার্থীদের একমাত্র দায়িত্ব, বাকি দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এটি শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং একটি মানবিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।
পরীক্ষার দিন পড়ুয়াদের সবচেয়ে বড় শত্রু সময়। সামান্য দেরিও মানসিক চাপে পরিণত হয়। সেই চাপ থেকে মুক্তি দিতেই পরিবহণ ব্যবস্থাকে সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাজ্য পরিবহণ দফতরের অতিরিক্ত বাস পরিষেবা সেই বাস্তব প্রয়োজনকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিশ্চিন্তে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর সুযোগ মানেই পরীক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস কয়েক ধাপ বেড়ে যাওয়া।
এখানেই শেষ নয়। অ্যাডমিট কার্ড ভুলে যাওয়া কিংবা ভুল পথে চলে যাওয়ার মতো ‘ছোট’ সমস্যাগুলিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার মানসিকতাই এই উদ্যোগকে আলাদা করে তোলে। প্রশাসনের এই অবস্থান পড়ুয়াদের কাছে এক স্পষ্ট বার্তা দেয়—ভুল হলে শাস্তি নয়, সহযোগিতাই আগে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন, পরীক্ষার সময় বাড়তি প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন। এবছর সেই দাবির বাস্তব রূপ মিলেছে। এর ফলে শুধু পড়ুয়ারাই নয়, অভিভাবকরাও কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকবেন—এটাই স্বাভাবিক।
তবে এই উদ্যোগ যেন কেবল মাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিক কিংবা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই রকম মানবিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠুক, সেটাই প্রত্যাশা।
মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রাক্কালে এই প্রস্তুতি প্রশাসনের সদিচ্ছার পরিচয় দেয়। যদি এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধুই একটি পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন করবে না—বরং পরীক্ষার্থীদের মনে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাও আরও দৃঢ় করবে।

