তেল কূটনীতির চাপে নয়াদিল্লি, কিন্তু সিদ্ধান্তে অটল ভারত

NEWS INDIA বাংলা
0

 তেল কূটনীতি ও ভারতের সিদ্ধান্তের রাজনীতি: চাপের মধ্যেও দিল্লির হিসেব স্পষ্ট

তেল কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত টানাপোড়েনের প্রতীকী চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তেল কখনওই শুধু জ্বালানি নয়। এটি শক্তি, প্রভাব এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সেই বাস্তবতাই ফের সামনে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক দাবিকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, ভারত নাকি রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকছে। তবে এই দাবির পরেই ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া বিষয়টির রাজনৈতিক চরিত্র আরও স্পষ্ট করে তোলে।

রাশিয়া সংক্ষেপে জানিয়ে দেয়—ভারত যেকোনও দেশ থেকেই তেল কিনতে স্বাধীন। এই অবস্থানে নতুন কিছু নেই। বরং এটিই ভারতের দীর্ঘদিনের জ্বালানি কূটনীতির মূল ভিত্তি। নয়াদিল্লি কখনও একক সরবরাহকারীর উপর নির্ভরশীল হয়নি। বহুমুখী উৎসে নির্ভর করাই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান কৌশল। সেই কারণেই ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার বাস্তব ভিত্তি দুর্বল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারত–রাশিয়া তেল বাণিজ্যকে রাজনৈতিক আনুগত্যের চোখে দেখার প্রবণতা বিভ্রান্তিকর। এটি আদতে অর্থনীতি ও পরিশোধন সক্ষমতার হিসাব। রাশিয়ার ইউরাল গ্রেডের ভারী অপরিশোধিত তেল ভারতের পরিশোধনাগারগুলির প্রযুক্তিগত কাঠামোর সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দামেও সস্তা। বিপরীতে, মার্কিন শেল তেল হালকা গ্রেডের হওয়ায় সেটি ব্যবহার করতে অতিরিক্ত মিশ্রণ ও ব্যয় প্রয়োজন। ফলে রাশিয়ান তেলের “সহজ বিকল্প” বাস্তবে তৈরি করা কঠিন।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। বাণিজ্য আলোচনায় সাফল্যের বার্তা তুলে ধরাই সম্ভবত এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য। বাস্তবতা হল, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিদিন প্রায় ১৫–২০ লক্ষ ব্যারেল রাশিয়ান তেলের ঘাটতি পূরণ করা সহজ নয়—এমনটাই মত জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।

পরিসংখ্যান ভারতের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশই আমদানি করে। ২০২১ সাল পর্যন্ত এই আমদানিতে রাশিয়ার ভূমিকা ছিল প্রায় নগণ্য। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আবহে ছাড়ে পাওয়া রাশিয়ান তেল ভারতের কাছে অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত বিকল্প হয়ে ওঠে। এটি ছিল সুযোগের সদ্ব্যবহার—কোনও ভূ-রাজনৈতিক শিবির বেছে নেওয়া নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ান তেল আমদানিতে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও, তার কারণ বাজার পরিস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা ও পরিবহণজনিত সীমাবদ্ধতা। রাজনৈতিক ঘোষণার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।

সব মিলিয়ে ছবিটা পরিষ্কার—ভারত কোনও শিবিরে বাঁধা নয়। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে দিল্লির অগ্রাধিকার একটাই—দাম, প্রাপ্যতা এবং স্থিতিশীলতা। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাকিটা মূলত শব্দের লড়াই। তেল কূটনীতির এই টানাপোড়েনে ভারতের সিদ্ধান্ত তাই ঠান্ডা মাথার হিসেবেই গড়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!