নিউজ ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ শ্রেণিভিত্তিক সংরক্ষণ সংক্রান্ত পুরোনো প্রশাসনিক বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করল দেবেন্দ্র ফড়নবীশ নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রায় এক দশক আগে প্রণীত Special Backward Category A (SBC-A) শ্রেণির আওতায় থাকা মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু পেশাভিত্তিক গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি প্রস্তাব এ দিন বাতিল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণের যে প্রশাসনিক কাঠামোটি বিদ্যমান ছিল, তার কার্যকারিতা কার্যত শেষ হল। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে— মুসলিম সম্প্রদায়ের যেসব ব্যক্তি ইতিমধ্যেই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) বা বিমুক্ত জাতি ও যাযাবর উপজাতি (Nomadic Tribes)-এর তালিকাভুক্ত, তাঁরা পূর্বের মতোই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন।
রাজ্যের সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে তৎকালীন কংগ্রেস–এনসিপি জোট সরকার ভোটের আগে এই নীতি চালু করেছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পূর্ণ অনুসরণ না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যার ফলেই বর্তমান সরকার এটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পেশাভিত্তিক গোষ্ঠী— যেমন তাঁতি, কসাই বা মৎস্যজীবীদের— SBC-A শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এই শ্রেণিভুক্ত প্রায় ৫০টি গোষ্ঠীকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
এই নীতির পটভূমিতে ছিল ২০০৮ সালে গঠিত মেহমুদ-উর-রহমান কমিটির সুপারিশ। ওই কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে মহারাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ মুসলিম জনগণ দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন। সরকারি চাকরিতে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষায় স্নাতক পর্যায়ে অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ২.২ শতাংশ।
এই প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে তৎকালীন কংগ্রেস–এনসিপি জোট সরকার সরকারি চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিমদের জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশ্যে একটি অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করেছিল।
পরবর্তীকালে বিষয়টি বম্বে হাইকোর্টে পৌঁছয়। আদালত নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সংরক্ষণের অনুমোদন দিলেও ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ওই অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হয়নি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অধ্যাদেশটির আইনি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
বর্তমান সরকার নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই পুরোনো সমস্ত নির্দেশিকা এবং SBC-A শ্রেণির শংসাপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে।
এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

