নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: বিতর্ক নতুন মোড় নিল অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবং অনুষ্ঠান উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর ঘটনায়। এবার অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি ২০ লক্ষ টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন তনয় শাস্ত্রী।
ঘটনার সূত্রপাত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় দু'ঘণ্টা দেরিতে অনুষ্ঠানে পৌঁছন মিমি চক্রবর্তী। জানা গেছে, বনগাঁর ওই অনুষ্ঠানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অভিনেত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাত ৯টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু তিনি পৌঁছন রাত ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ।
এই বিলম্বের জেরে অনুষ্ঠান কার্যত বিঘ্নিত হয় বলে দাবি উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর। তার বক্তব্য, সময়সীমা মেনে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তির ঘোষণা করতে হয়।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়, যখন মিমি চক্রবর্তী প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন যে তিনি অনুষ্ঠানে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করে। তদন্তের স্বার্থে আদালতে গোপন জবানবন্দীও দেন অভিনেত্রী।
তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এবার পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নিলেন তনয় শাস্ত্রী। তার দাবি, অভিনেত্রীর দেরিতে আসার কারণে অনুষ্ঠানের আয়োজনে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই সূত্রেই ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং ২০ লক্ষ টাকার মানহানির দাবি জানানো হয়েছে আইনি নোটিসে।
তনয়ের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানিয়েছেন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি— উভয় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দাবি জানানো হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে ক্ষমা চান অভিনেত্রী।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমকে তনয় শাস্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়বেন। এবার আইনি নোটিস পাঠানোর পর তার বক্তব্য—
"এ তো সবে শুরু।"
আইনি লড়াই এখন কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই নজর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।

