নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ফলাফলের দিক থেকে ম্যাচটি ভারতের ঝুলিতেই গেল, কিন্তু বুধবার রাতের ভারত বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে অন্য এক গল্প লিখে দিল। নিয়মরক্ষার এই ম্যাচে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এল নেদারল্যান্ডসের জেদ ও লড়াই।
সুপার এইট পর্বে পৌঁছনোর সমীকরণ আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল সীমিত। কিন্তু মাঠে নেমে ডাচ দল দেখিয়ে দিল— বিশ্বমঞ্চে তারা শুধুই অংশ নিতে আসেনি, লড়তেও জানে।
ভারতের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ওপেনিং জুটিতে দ্রুত ভাঙন নামে। অভিষেক শর্মা রান না করেই ফিরে যান। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি ঈশান কিষানও। দুই ব্যাটারকেই ফিরিয়ে দেন ডাচ বোলার আরিয়ান দত্ত, যিনি নিজেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
মাঝের সারিতে তিলক বর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের ইনিংসও তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে। ১৪তম ওভারে ভারতের চার উইকেট পড়ার সময় রান ছিল মাত্র ১১০।
এই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন শিবম দুবে। আক্রমণাত্মক মানসিকতায় ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের রং বদলে দেন তিনি। মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রান করে ভারতকে লড়াইয়ের জায়গায় ফিরিয়ে আনেন। অন্যদিকে হার্দিক পাণ্ডিয়াও ৩০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
তবে প্রত্যাশিত বিশাল স্কোর গড়তে পারেনি ভারত। নির্ধারিত ওভার শেষে নেদারল্যান্ডসের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৪ রান।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস সতর্কভাবে শুরু করে। মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’ডিড ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও বড় পার্টনারশিপ তৈরি হয়নি। ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে ধীরে ধীরে ছন্দ হারায় ডাচ ব্যাটিং।
বিশেষ করে বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন ডাচদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মাত্র তিন ওভারে ১৪ রান খরচ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। কিন্তু স্কোরলাইনের বাইরেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে— নেদারল্যান্ডস লড়াই না করে হার মানেনি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে শেষ ম্যাচে তারা দেখিয়ে দিল প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নিজেদের উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাদের বড় প্রাপ্তি।
পরিসংখ্যান বলবে ভারত জয়ী। কিন্তু ক্রিকেটের ভাষায়— নেদারল্যান্ডস হারলেও সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়ল।

