ফুড ডেলিভারিতে নামছে ফ্লিপকার্ট, টক্করে জোম্যাটো–সুইগি
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:ই-কমার্সের যুগে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ—প্রায় সব কিছুই এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। এই ডিজিটাল বাজারে যে নামটি ক্রেতাদের মাথায় প্রথমেই আসে, তা হল ফ্লিপকার্ট (Flipkart)। এবার সেই প্ল্যাটফর্মই আরও বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে।
ডেলিভারি পরিষেবায় ইতিমধ্যেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে ফ্লিপকার্ট। এবার তারা নজর দিচ্ছে আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি ক্ষেত্রে—অনলাইন ফুড ডেলিভারি। বাজারে জোম্যাটো (Zomato) ও সুইগি (Swiggy)-র মতো প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্মকে টক্কর দিতে খাবার সরবরাহের পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত দুটি সম্ভাব্য পথ বিবেচনা করছে ফ্লিপকার্ট। প্রথমত, সম্পূর্ণ নিজস্ব ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম চালু করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ONDC)-এর অধীনে পরিষেবা চালু করা।
এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ভারতের ই-কমার্স এবং ফুড ডেলিভারি বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ONDC-র সঙ্গে যুক্ত হলে ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলিও সরাসরি ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে—যা বাজারের ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে এই উদ্যোগ একেবারেই নতুন নয়। এর আগেও ফ্লিপকার্ট ফুড ডেলিভারির ক্ষেত্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।সম্প্রতি সংস্থাটি ৫০০টি লোকেশনে ডার্ক স্টোর (Dark Store) নেটওয়ার্ক চালু করেছে। এই নেটওয়ার্ক দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবার পরিকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ফ্লিপকার্টের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই সংখ্যা ১০০০-এ পৌঁছে দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ডার্ক স্টোর নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতের দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবার জন্য একটি কৌশলগত প্রস্তুতি। যদি ফুড ডেলিভারি পরিষেবা চালু হয়, তাহলে এই অবকাঠামো তাৎক্ষণিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ভারতের অনলাইন খাদ্য সরবরাহ বাজার বর্তমানে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রতিযোগীর আগমন শুধুমাত্র বাজার দখলের লড়াই নয়, বরং পরিষেবার মান, মূল্য এবং ডেলিভারি গতির ক্ষেত্রেও নতুন প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে পারে।
ফ্লিপকার্ট যদি সফলভাবে এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করে, তাহলে ভবিষ্যতে গ্রোসারি, রেডি-টু-ইট মিল এবং ক্লাউড কিচেন মডেলের সঙ্গেও সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ফ্লিপকার্টের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ ভারতীয় ডিজিটাল কমার্স ইকোসিস্টেমে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

