নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন বাস্তবতা সামনে এনেছে। দীর্ঘ সময় পর বিরোধী রাজনীতিতে বড় আকারে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এককভাবে ৬৮টি আসন এবং শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) ও খেলাফত মজলিস-এর ৯টি আসন মিলিয়ে ১১-দলীয় জোটের মোট ৭৭টি আসন সংখ্যার বিচারে এটি শক্তিশালী বিরোধী অবস্থান।
সংখ্যার এই অঙ্ক স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা কে হচ্ছেন?
দলীয় সূত্র খবর, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদীয় দলের নেতা হচ্ছেন।ফলে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও তার কাঁধে পড়তে পারে। বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রধান হিসেবে এটি রাজনৈতিকভাবেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তবে উপনেতা পদ নিয়ে সমীকরণ এখনও জটিল। আলোচনায় আছেন এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আবার জামায়াতের নায়েবে আমিরদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম ভাসছে।মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মূলত এই কয়েকটি নামই ঘোরাফেরা করছে।
এখানে মূল প্রশ্ন ব্যক্তি নয়, রাজনৈতিক বার্তা। বিরোধীদলীয় উপনেতা যদি শরিক দলের কাউকে করা হয়, তাহলে ১১-দলীয় জোটের ঐক্য সুদৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত মিলবে। আর যদি জামায়াত নিজ দল থেকেই নির্বাচন করে, তবে তা হবে দলটির ভেতরকার শক্তি ও নেতৃত্বের প্রদর্শন। দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক তাৎপর্য আলাদা।
এই ফলাফল আরও কয়েকটি বাস্তবতা সামনে এনেছে। প্রথমত, ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন পাওয়া দলটি এবার ৬৮-এ পৌঁছেছে।এটি সাংগঠনিক বিস্তার ও ভোটব্যাংক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। দ্বিতীয়ত, কম ব্যবধানে হারা বহু আসনের হিসাব দেখিয়ে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার কৌশলও স্পষ্ট। মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জোবায়ের যে ‘ফলাফল টেম্পারিং’-এর অভিযোগ তুলেছেন, তা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করা যাবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার ঐতিহাসিক দায় বহনকারী দল হিসেবে জামায়াতের উত্থান নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সমাজের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের প্রতিফলন বলছে, অন্য অংশ দেখছে ইতিহাস ও আদর্শের প্রশ্নে এক ধরনের পুনর্বিন্যাস।
সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু সেই শক্তি কতটা গঠনমূলক ভূমিকা নেবে, কতটা সংঘাতমুখী হবে।তা নির্ভর করবে নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার ওপর। বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত তাই কেবল সাংগঠনিক পদায়ন নয়। এটি আগামী দিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্ধারণেরও সূচক।
বাংলাদেশ এখন তাকিয়ে আছে সংখ্যার শক্তি কি দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতিতে রূপ নেবে, নাকি তা হবে আরেক দফা উত্তপ্ত মেরুকরণের সূচনা? সময়ই তার উত্তর দেবে।

