নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:মাঘের শেষলগ্নেই শীতের আমেজকে কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বিদায় জানাতে শুরু করেছে প্রকৃতি। ক্যালেন্ডারের পাতায় ফাল্গুনের আগমন মানেই ঋতুবদলের ইঙ্গিত—আর সেই ইঙ্গিত এবার বাস্তবেই ধরা পড়ছে বাংলার আবহাওয়ায়। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে অনুভূত হয়েছে বসন্তের তপ্ত স্পর্শ। চড়চড়ে রোদ, কমে যাওয়া আর্দ্রতা (Humidity) এবং শুষ্ক বাতাস মিলিয়ে বদলে গেছে চেনা আবহাওয়ার চরিত্র।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আজ সকাল থেকেই মূলত মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার। ভোরে হালকা কুয়াশার উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। মহানগর কলকাতায় আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৯° সেলসিয়াস, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং মেদিনীপুরের উপকূলীয় এলাকায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় আবহাওয়া বেশ শুষ্ক হয়ে উঠেছে। বীরভূম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা বাড়বে, যা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। আজ দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
দক্ষিণবঙ্গ যখন উষ্ণতার দিকে এগোচ্ছে, উত্তরবঙ্গ তখনো শীতের শেষ রেশ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে সকালবেলায় মাঝারি কুয়াশা দেখা যায়, যা কিছু সময়ের জন্য দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়। তবে দুপুরের পর আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর পাহাড়ি অঞ্চলে তাপমাত্রা এখনো সমতলের তুলনায় অনেকটাই কম। সেখানে শীতের আমেজ বজায় থাকলেও সার্বিকভাবে উত্তরবঙ্গেও আজ বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই।
আজকের আবহাওয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে প্রায় ৩৪%-এ নেমে আসা। শুষ্ক উত্তর-পূর্বী হাওয়ার প্রভাবে ত্বকে শুষ্কতা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, দিনের বেলা গরম এবং রাতের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ার এই বৈপরীত্য ঋতু পরিবর্তনজনিত অসুখ (Seasonal Illness) ডেকে আনতে পারে।
ইতিমধ্যেই ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশি এবং গলা ব্যথার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোদঝলমলে আবহাওয়া ধান কাটার জন্য অনুকূল হলেও রবি শস্যের ক্ষেত্রে কম আর্দ্রতা সেচ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, দিঘা বা মন্দারমণির মতো সমুদ্রতট এলাকায় পর্যটকদের জন্য আজকের আবহাওয়া অনুকূল হলেও রোদের তেজ থেকে সুরক্ষার জন্য ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আজ অতিবেগুনি রশ্মির সূচক (UV Index) ৬-এর ঘরে পৌঁছাতে পারে, যা মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
এক নজরে আজকের আবহাওয়া
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ: রোদঝলমলে, সর্বোচ্চ ২৯°C, সর্বনিম্ন ১৬°C
উত্তরবঙ্গ: সকাল কুয়াশাচ্ছন্ন, পরে রোদ
ঋতুর পালাবদলের এই সময়টায় আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

