আজকের দিনে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া এক বৈচিত্র্যময় রূপ ধারণ করেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এসেও শীতের প্রকোপ এবং তাপমাত্রার চড়াই-উতরাই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব কিছুটা কমলেও ভোরের দিকে শীতের আমেজ বজায় রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আজ ভোরের আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৫°C রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি কম। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তেজ বাড়বে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫°C-এর আশেপাশে পৌঁছাতে পারে।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম—এই জেলাগুলোতে শীতের দাপট এখনো বেশ অনুভূত হচ্ছে। এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০°C-এর নিচে নেমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আজ আকাশ পরিষ্কার থাকায় দিনের বেলায় আবহাওয়া মনোরম থাকবে।
ভারতের ‘জিরো পয়েন্টে’ জাগ্রত দক্ষিণা কালীমন্দির বিস্তারিত পড়ুন
উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সকালে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় ট্রেন ও বিমান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে।
দার্জিলিং এবং কালিম্পং-এর পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা ২°C থেকে ৫°C-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কিছু উঁচুতে তুষারপাতের সম্ভাবনা না থাকলেও কনকনে ঠান্ডা হাওয়া পর্যটকদের বেশ আনন্দ দিচ্ছে। উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকায় হিমেল বাতাসের কারণে দিনের বেলাতেও সোয়েটার বা জ্যাকেট পরে থাকা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের সমতলে "হলুদ সতর্কতা" (Yellow Alert) জারি থাকবে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, তাই চালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ভোর ৪টে থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সাবধানে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গেই বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। তবে বঙ্গোপসাগরে একটি উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়তে পারে, যা হালকা মেঘলা আকাশের সৃষ্টি করতে পারে।
জুল রিমে থেকে বর্তমান ট্রফি বিস্তারিত পড়ুন
জানুয়ারির এই আবহাওয়া কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়েছেন:
- আলু চাষ: কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় আলু গাছে "ধসা রোগ" হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নির্দিষ্ট ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- সর্ষে চাষ: বর্তমান রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া সর্ষে চাষের জন্য অনুকূল। তবে পোকার আক্রমণ রুখতে সজাগ থাকতে হবে।
- বোরো ধান: যারা বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করছেন, তারা রাতের বেলা ঠান্ডা থেকে চারা বাঁচাতে হালকা সেচের ব্যবস্থা করতে পারেন।
ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে সর্দি, কাশি এবং জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, দিনের বেলা রোদ এবং রাতে ঠান্ডার এই পার্থক্যের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে জল পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কলকাতার বায়ুর গুণমান আজ 'মাঝারি' থেকে 'খারাপ' পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। আনন্দপুর, বালিগঞ্জ ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে AQI ২১০-এর কাছাকাছি রেকর্ড করা হয়েছে। শীতকালে বাতাসে ধূলিকণা আটকে থাকার কারণে শ্বাসকষ্টের রোগীদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আলিপুর দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ১৯ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রার পারদ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে। ২০২৬ সালের এই জানুয়ারিতে বড় ধরনের কোনো শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে পুনরায় একটি ছোট ঠান্ডা স্পেল বা শীতের কামড় আসতে পারে।
সিনেমার জন্ম ও বিবর্তন বিস্তারিত জানুন
দীঘা, মন্দারমণি এবং বকখালির মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হালকা হাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা নেই, ফলে মৎস্যজীবীদের জন্য কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।
উপসংহার:
সামগ্রিকভাবে, আজকের পশ্চিমবঙ্গ এক মনোরম শীতকালীন পরিবেশের সাক্ষী থাকছে। রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ এবং ভোরের কুয়াশা মিলেমিশে এক সুন্দর আবহাওয়া তৈরি করেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শীতবিলাসীদের কিছুটা হতাশ করতে পারে।

