ভারতের ‘জিরো পয়েন্টে’ জাগ্রত দক্ষিণা কালীমন্দির: সীমান্তে বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও ইতিহাসের মিলনস্থল

NEWS INDIA বাংলা
0

 মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী থেকে স্বপ্নসুন্দরী হেমা মালিনী—অগণিত ভক্ত ছুটে গিয়েছেন এই মন্দিরে। ভারতের শেষ সীমানায় অবস্থিত এই তীর্থস্থান অনেকের কাছেই ‘জিরো পয়েন্ট’। দুই দেশের অটুট বন্ধুত্বকে যেন নীরবে আগলে রেখেছেন দক্ষিণা কালী মা।

বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:- ভারতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু তীর্থস্থান কেবল ধর্মীয় আস্থার প্রতীক নয়—তারা হয়ে ওঠে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের নীরব সাক্ষী। আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া ব্লকের মাকড়াপাড়ায় অবস্থিত জাগ্রত দক্ষিণা কালীমন্দির ঠিক তেমনই এক অনন্য নিদর্শন।

অনেকের কাছেই এই মন্দির ‘জিরো পয়েন্ট’—যেখানে ভারতীয় ভূখণ্ডের সীমা শেষ হলেও বিশ্বাসের সীমানা শেষ হয় না। সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির যেন জাতিরেখার ঊর্ধ্বে উঠে আস্থার এক চিরন্তন ভাষা উচ্চারণ করে।

ব্রিটিশ আমলে একটি বটগাছের তলায় টিনের ছাউনিতে শুরু হওয়া এই পুজো আজ রূপ নিয়েছে এক বিস্তৃত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে। ১৯৫০ সালে চা-বাগান মালিক এস.পি. রায়ের স্বপ্নাদেশে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। সেই সময় ভুটানের রাজার সহযোগিতার ইতিহাস প্রমাণ করে—এখানে ধর্ম কেবল আচার নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন। আজও ভুটানের একটি সিমেন্ট কোম্পানির উদ্যোগে মন্দিরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও জলের ব্যবস্থা সেই বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতাই বহন করে।

এই মন্দিরের মাহাত্ম্য কেবল অলৌকিক বিশ্বাসে সীমাবদ্ধ নয়। মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী থেকে স্বপ্নসুন্দরী হেমা মালিনীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এখানে এসে মায়ের কাছে পুজো দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ভারত ছাড়াও ভুটান ও নেপালের বৌদ্ধ ভক্তদের নিয়মিত উপস্থিতি প্রমাণ করে—দক্ষিণা কালী এখানে কেবল হিন্দু ধর্মের প্রতীক নন, তিনি এক সর্বজনীন বিশ্বাসের নাম।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জীবিকার এক নতুন পরিসর। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মাকড়াপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে ৫৬টি সিঁড়ি। পুজোর দিনগুলিতে ভক্তসমাগম, মন্দির চত্বরের দোকানপাট—সব মিলিয়ে এই তীর্থস্থান স্থানীয় অর্থনীতিরও চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকায় ধর্ম এখানে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

তবে এই উন্নয়নের মাঝেও প্রশ্ন থেকেই যায়—সীমান্তবর্তী এমন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলির সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত বিকাশে প্রশাসনিক দায়িত্ব কতটা সক্রিয়? বিশ্বাসের মর্যাদা বজায় রেখেই প্রয়োজন সুসংহত পরিকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের স্পষ্ট রূপরেখা।

মাকড়াপাড়ার জাগ্রত দক্ষিণা কালীমন্দির তাই শুধু একটি মন্দির নয়। এ এক জীবন্ত সীমান্ত—যেখানে ধর্ম আগলে রাখে সম্পর্ককে, আর বিশ্বাস ছাড়িয়ে যায় জাতিরেখা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!