হায়দরাবাদ হাউসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রপ্তানির সুযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসানিকে হাওয়ায় উড়িয়ে মঙ্গলে সাক্ষরিত হলো ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি। হায়দরাবাদ হাউসে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিবাদন করে বলেন,‘দুই পক্ষই লাভজনক অংশীদারত্ব বেছে নিয়েছে। আমরা করে দেখালাম।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেন,‘ঐতিহাসিক ডিল, দুই পক্ষের সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।’
হায়দরাবাদ হাউসে ইউরোপিয়ান কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এদিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন,‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন, কারণ দুটি প্রধান বৈশ্বিক শক্তি, India এবং EU, তাদের অংশীদারিত্বকে অর্থাৎ পার্টনারশিপকে সমন্বয় ও সহযোগিতার নতুন স্তরে পৌঁছে দিল। এটা বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।’
একইসঙ্গে ইউরোপিয়ান কমিশনের সভাপতি উরসুলা জোর দিয়ে বলেন,‘এই চুক্তি উভয় পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করবে। চুক্তিটি শুধু বাণিজ্য ক্ষেত্রেই নয়, বাণিজ্যের বাইরেও বিস্তৃত, যা ভারত এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করবে।’ তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে চার বিলিয়ন ইউরো ট্যারিফ সাশ্রয় হবে এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাড়বে লাভ ও সাপ্লাই চেন।
উরসুলার মতে,‘এই চুক্তির ফলে ভারতীয় স্কিলের সঙ্গে মিলবে ইউরোপের প্রযুক্তি। যা বাড়াবে দক্ষতা ও পরিষেবার স্কেল। উদ্ভাবনী শক্তিকেও বৃদ্ধি করবে। যা কোনও দেশের একার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। ভারতের উত্থান বিশ্বের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। ভারতের উত্থান হয়েছে, এবং ইউরোপ এতে সত্যিই খুশি। কারণ যখন ভারত সফল হয়, তখন বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আসে। বাড়ে নিরাপত্তা।’ এই মন্তব্যের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন,‘এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটি সমৃদ্ধির একটি নীল নকশা। এটি দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয়ের একটি চমৎকার উদাহরণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-EU সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকেও সমৃদ্ধ করবে।’ চুক্তির পাশাপাশি ভারতের আথিথেয়তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন উরসুলা।
উল্লেখ্য, এই চুক্তি নিয়ে প্রথম ২০০৭ সালে আলোচনা শুরু হয়েছিল, পরে ২০১৩ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর পরে ২০২২ সালের জুনে আবারও এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে ১৯ বছরের অপেক্ষা শেষে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের সামনে দারুণ সুযোগ এনে দিল। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ লাভজনক। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি দেশে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রপ্তানির সুযোগ খুলে। আবার ইউরোপের অন্য দেশগুলির থেকেও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক আরোপ করবে না ভারত।

