আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাষ্ট্রপতি-রাজ্যপালের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল, সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি
রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চায় কালীঘাট তৃণমূল
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও জানিয়েছেন, দু’জনের সঙ্গেই দেখা করার জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ জানানোই এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা যাচ্ছে।
কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, হেনস্থা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের মতো একাধিক ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছে দলটি। এই বিষয়গুলিই সাংবিধানিক দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সামনে তুলে ধরতে চায় তৃণমূল।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। গত ৩০ মে সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কাদা ও জল ছোড়ার অভিযোগও সামনে আসে। তৃণমূলের দাবি, দলের বর্তমান ও প্রাক্তন একাধিক জনপ্রতিনিধিও বিভিন্ন সময়ে হামলা ও হেনস্থার মুখে পড়েছেন।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসে। তৃণমূলের দাবি, দফতরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আরও তীব্র প্রশ্ন তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। দলের বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠার পরও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের কাছে বিস্তারিত অভিযোগ জানাতে চায় তৃণমূল। রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে অনুমতি না দেওয়া, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগও সেই তালিকায় থাকতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সভাগুলিতেও তৃণমূল নেতৃত্ব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, নারী নির্যাতন এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ, কোনও একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়, গত কয়েক মাসে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সামগ্রিক অভিযোগপত্র পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
তবে তৃণমূলের অভিযোগগুলির রাজনৈতিক পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন ভাঙলে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের কাছে তৃণমূলের এই আবেদনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন নজর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং রাজ্যপাল আর এন রবির দফতর থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার দিকে। সাক্ষাতের অনুমতি মিললে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি দল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাগুলি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও অভিযোগ তাঁদের সামনে তুলে ধরবে। সেই বৈঠক হলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় স্তরেও নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।


