Somnath Dey Arrest: বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান

NEWS INDIA বাংলা
0

 পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে গ্রেফতার, বেঙ্গালুরু থেকে ধরে আনল পুলিশ

আরজি করের সৎকার-পর্বে নতুন মোড়, বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে

বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে


পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে গ্রেফতার, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকার এবং সেই প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রমাণ নষ্টের অভিযোগের তদন্তে বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের। বৃহস্পতিবার ভোররাতে বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি কর মামলার সৎকার-পর্ব নিয়ে দায়ের হওয়া নতুন এফআইআরে সোমনাথ দে-র নাম রয়েছে। অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তকারীদের দাবি, নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই সোমনাথ দে-র সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়। তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধির খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে ওড়িশায় তাঁর সন্ধান চালায় পুলিশ। পরে হায়দরাবাদেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোমনাথ দে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন। এরপর খড়দহ থানার তদন্তকারী আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল বেঙ্গালুরুতে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার কথা। রাজ্যে ফেরানোর পর সোমনাথ দে-কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে তরুণী চিকিৎসকের দেহ সৎকারের পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল—তা জানার চেষ্টা করা হবে।

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কে বা কার নির্দেশে দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সময় কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, সৎকারের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এই মামলায় সোমনাথ দে-র আগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর সৎকার-পর্ব নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর এই গ্রেফতারগুলি হয়েছে।

আরজি করের মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলা এবং আরজি কর হাসপাতাল-সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি মৃতদেহ সৎকারের বিষয়টি নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু হওয়ায় মামলার পরিধি আরও বেড়েছে। তদন্তকারীরা এখন সৎকারের সময়কার নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সেই সময়ের যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

সোমনাথ দে-র বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতারি এই তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে সৎকারের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্তের প্রমাণ এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!