স্কুলে পৌঁছল ‘গ্রামের পথে চলচ্চিত্র উৎসব’, শ্রীরামপুর-বগুলায় পড়ুয়াদের উৎসাহ
শহর ছেড়ে এবার স্কুলে সিনেমার উৎসব, শ্রীরামপুর-বগুলায় ‘গ্রামের পথে চলচ্চিত্র উৎসব’
শহরের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছল চলচ্চিত্র উৎসব। ইন্দো বাংলা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গ্রামের পথে চলচ্চিত্র উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীরামপুরের মলিনা লাহিড়ী বয়েজ অ্যাকাডেমি এবং নদিয়ার বগুলা পূর্বপাড়া হাই স্কুলে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকদেরও চলচ্চিত্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত করানোই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
‘গ্রামের পথে চলচ্চিত্র উৎসব’ ইন্দো বাংলা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের একটি বিশেষ উদ্যোগ। চলতি বছরের মে মাসে কলকাতা প্রেস ক্লাবে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও শহরাঞ্চলে শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই শ্রীরামপুর ও বগুলার দুই বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় চত্বরে সিনেমা দেখার সুযোগ পেয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে আগ্রহও তৈরি হয়। চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন বাস্তব বিষয়কে বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম—এই ধারণাকে সামনে রেখেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের বক্তব্য।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয় ও ভাবনার ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি সিনেমার বিষয়বস্তু, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং চলচ্চিত্রচর্চা নিয়েও পড়ুয়াদের মধ্যে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করা হয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পাঠ্যক্রমের বাইরে ভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
বগুলা পূর্বপাড়া হাই স্কুলটি নদিয়ার হাঁসখালি এলাকার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Banglar Shiksha পোর্টালেও বিদ্যালয়টির নাম ও অবস্থান নথিভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন নথিতে ‘Serampore Malina Lahiri Boys Academy’ নামে উল্লেখিত হয়েছে।
![]() |
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয় ও গ্রামীণ এলাকায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সিনেমাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চলচ্চিত্র দেখার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের ভাষা, নির্মাণ ও সামাজিক ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুই বিদ্যালয়ে মোট সাতটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কথা বলা হলেও, এই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি স্বাধীন কোনও নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্রতিবেদনে যাচাই করা যায়নি। ফলে প্রকাশের সময় এটিকে ‘আয়োজকদের দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করাই তথ্যগতভাবে নিরাপদ।




