ফরাক্কায় রেল বিপর্যস্ত, যাত্রীদের জন্য ২০টি বাস রাজ্যের! বাড়ছে বিকল্প পরিবহণ
ফরাক্কার রেল ধসে আটকে বহু যাত্রী, গন্তব্যে পৌঁছতে রাজ্যের ২০টি বাসের ব্যবস্থা
মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়ার ঘটনায় দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ এখনও বড় ধাক্কার মুখে। টানা বৃষ্টির জেরে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে ধস নামার পর একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল, ঘুরপথে চালানো এবং যাত্রাপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে কলকাতা, মালদহ, উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে যাতায়াতকারী বহু যাত্রী সমস্যায় পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য সরকারি বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
রাজ্য সরকারের তরফে ফরাক্কায় আটকে থাকা রেলযাত্রীদের জন্য মোট ২০টি বাস পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই বিকল্প পরিবহণ পরিষেবা চালু করা হয়। রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজন হলে থাকার ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে প্রবল বৃষ্টির জেরে রেললাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতির কাজ শুরু হওয়ার পরও নতুন করে মাটি বসে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। রেল কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চালাচ্ছে। নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপ লাইনে স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়।
এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গগামী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পরিষেবা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বন্দে ভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন বাতিল বা অন্য পথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে এবং অনেকেই বিকল্প হিসেবে বাসের দিকে ঝুঁকেছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সড়কপথে বিকল্প যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। ৫ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ি থেকেও আরও আটটি সরকারি বাস চালুর কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ ও অর্থমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। এই বাসগুলির মাধ্যমে কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং কোচবিহারের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রীদের পরিষেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে শুধু রেল পরিষেবা নয়, সড়কপথেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রেন বাতিল হওয়ায় বিপুল সংখ্যক যাত্রী বাসের উপর নির্ভর করায় টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। কোথাও কোথাও বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে সরকারি বাস পরিষেবা যাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ভরাট, পাইলিং এবং ট্র্যাক পুনর্গঠনের কাজ চলছে। তবে রেললাইন মেরামত করলেই পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না; ইঞ্জিনিয়ারদের নিরাপত্তা ছাড়পত্রও প্রয়োজন। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে মেরামতির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং পরীক্ষা সফল হলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ফরাক্কার এই বিপর্যয় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়লে কীভাবে হাজার হাজার যাত্রীকে দ্রুত বিকল্প পরিবহণ দেওয়া যায়, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপাতত রাজ্যের বাস পরিষেবা এবং রেলের মেরামতির কাজ—দুই দিকেই নজর যাত্রীদের। রেল পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে প্রশাসন।


