China Landslide: চীনে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ১১

NEWS INDIA বাংলা
0

 চীনে ভয়াবহ ভূমিধস, মৃত ১, নিখোঁজ ১১! সাউদেলের বৃষ্টিতে ধ্বংস বহু বাড়ি

সাউদেলের প্রবল বৃষ্টির পর চীনে ভয়াবহ ভূমিধস, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ১১

চীনের Jiangxi-তে Typhoon Saudel-এর বৃষ্টিতে ভয়াবহ ভূমিধস ও উদ্ধার অভিযান


প্রবল বৃষ্টির পর চিনের জিয়াংসি (Jiangxi) প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধস ও কাদাধসের ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ১১ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে জিয়াংসি প্রদেশের জিয়ানের (Ji’an) সুইচুয়ান কাউন্টির (Suichuan County) গাওপিং টাউনশিপের (Gaoping Township) মিংখেং গ্রামের শিষিয়া এলাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ধসের জেরে ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে আটটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি, কাদা ও পাথর নেমে আসে। ধসের অভিঘাতে বসতবাড়ি চাপা পড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিখোঁজ হন। এখনও পর্যন্ত তিনজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন জীবিত এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। অন্য একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধানে জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।

এই বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে ঘূর্ণিঝড় সাউদেল (Typhoon Saudel)-এর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টি। স্থানীয় আবহাওয়া ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুইচুয়ান এলাকায় লাগাতার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ভূমিধস ও কাদাধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জিয়াংসি প্রদেশে সাউদেলের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা এবং রাস্তা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

দুর্যোগের পর স্থানীয় প্রশাসন, দমকল, পুলিশ, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিভাগের কর্মীরা উদ্ধারকাজে নেমেছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য এখন নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করা। একইসঙ্গে আরও ভূমিধস বা পাহাড়ি এলাকায় নতুন বিপদের আশঙ্কায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

চিনের কেন্দ্রীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়েছে। জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রক এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রকৌশল সহায়তা এবং ভূতাত্ত্বিক বিপদ পর্যবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। দমকল বাহিনীর ৪১টি গাড়ি এবং ২২৪ জন কর্মীকে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে সাউদেলের প্রভাবে চিনের উপকূলীয় ফুজিয়ান (Fujian) প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টি ও বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একাধিক এলাকায় মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও প্রভাব পড়েছে। ফলে জিয়াংসির পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বজায় রয়েছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ ১১ জনকে ঘিরে। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকারীদের কাজও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!