Bollywood News Saiyami Kher: নারী-কেন্দ্রিক ছবি নিয়ে বলিউডের বৈষম্য, সরব সাইয়ামি খের

NEWS INDIA বাংলা
0

 নারী-প্রধান ছবি ব্যর্থ হলেই প্রশ্ন ওঠে, পুরুষদের ক্ষেত্রে নয়: বলিউডে বৈষম্য নিয়ে সরব সাইয়ামি খের

‘একবার ব্যর্থ হলেই সুযোগ কমে যায়’, বলিউডে নারী অভিনেত্রীদের নিয়ে কোন বৈষম্যের কথা বললেন সাইয়ামি?

নারী-কেন্দ্রিক সিনেমা নিয়ে বলিউডের বৈষম্য প্রসঙ্গে অভিনেত্রী সাইয়ামি খের

বলিউডে নারী-কেন্দ্রিক ছবির সংখ্যা গত কয়েক বছরে বাড়লেও পুরুষ-প্রধান ছবির তুলনায় এখনও নারীদের নেতৃত্বে তৈরি সিনেমাকে আলাদা মানদণ্ডে বিচার করা হয়—এমনই অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সাইয়ামি খের (Saiyami Kher)। তাঁর দাবি, কোনও নারী-প্রধান ছবি বক্স অফিসে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না পেলেই ছবির বিষয়বস্তু থেকে শুরু করে অভিনেত্রীদের যোগ্যতা নিয়ে দ্রুত প্রশ্ন ওঠে। অথচ পুরুষ অভিনেতাদের ছবি ব্যর্থ হলেও তাঁদের পরবর্তী কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সেই চাপ তুলনামূলকভাবে কম।

আসন্ন ছবি ‘Haiwaan’-এর প্রচারের আগে SCREEN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বৈষম্য নিয়ে নিজের মতামত জানান সাইয়ামি। তাঁর বক্তব্য, কোনও নারীকে কেন্দ্র করে ছবি তৈরি হলেই অনেক সময় প্রথম প্রশ্ন উঠে আসে—এই ছবি দেখতে দর্শক আদৌ প্রেক্ষাগৃহে আসবেন কি না। তাঁর মতে, এই ধরনের পূর্বধারণাই নারী-কেন্দ্রিক সিনেমার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করে এবং ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতাকে অনেক সময় পুরুষ-প্রধান ছবির তুলনায় ভিন্নভাবে দেখা হয়।

এই প্রসঙ্গে সাইয়ামি উল্লেখ করেন আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) ও শর্বরী অভিনীত ‘Alpha’-র কথা। যশ রাজ ফিল্মসের তৈরি এই নারী-কেন্দ্রিক স্পাই-অ্যাকশন ছবিতে দুই অভিনেত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়। সাইয়ামির বক্তব্যের মূল যুক্তি হল, কোনও পুরুষ অভিনেতার ছবি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা না করলেও তাঁর পরবর্তী ছবিতে আবার বড় সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কোনও নারী-প্রধান ছবি ব্যর্থ হলে তার প্রভাব অনেক সময় অভিনেত্রীদের ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগের উপরও পড়ে।

সাইয়ামির মতে, এই পরিস্থিতিতে মহিলা অভিনেত্রীদের বারবার নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। শুধু অভিনয় নয়, তাঁদের অভিনীত ছবির বক্স অফিস ফলাফলও যেন তাঁদের কেরিয়ারের মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ফলে একটি ছবির ব্যর্থতা কখনও কখনও একজন অভিনেত্রীর দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেয়।

তবে সমস্যা শুধু পর্দায় নারী চরিত্রের উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করেন সাইয়ামি। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। মহিলা পরিচালক (Director), লেখক (Writer), টেকনিশিয়ান এবং DOP-দের সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়লেও এই পরিবর্তনের গতি আরও দ্রুত হওয়া দরকার।

নারী-কেন্দ্রিক সিনেমার জন্য শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময় চিত্রনাট্য তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, স্মিতা পাটিল, শাবানা আজমি, তব্বু এবং শেফালি শাহের মতো অভিনেত্রীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী চরিত্র লেখা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে একজন মহিলাকে রাখা নয়, বরং তাঁদের অভিনয়ক্ষমতার উপযোগী জটিল ও শক্তিশালী চরিত্র তৈরি করাও জরুরি।

একই সাক্ষাৎকারে সাইয়ামির সহ-অভিনেত্রী শ্রিয়া পিলগাঁওকরও (Shriya Pilgaonkar) পুরুষ ও মহিলা অভিনেতাদের comeback-এর ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও পুরুষ অভিনেতা সাত বা দশ বছর বিরতির পর ফিরে এলেও সহজেই প্রধান চরিত্রে জায়গা পেতে পারেন। কিন্তু কোনও মহিলা অভিনেত্রী দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলে অনেক সময় তাঁকে আবার নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়।

সাইয়ামির বক্তব্য ঘিরে বলিউডে নারী প্রতিনিধিত্ব, বক্স অফিসের মানদণ্ড এবং অভিনেত্রীদের কেরিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিনেত্রীর মতে, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সেটিকে আরও গভীর ও দ্রুত করার প্রয়োজন রয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!