Bengal Bypolls 2026: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বড় জয়ের দাবি বিজেপির, রেকর্ড মার্জিনের বার্তা শুভেন্দুর

NEWS INDIA বাংলা
0

 নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বড় জয়ের দাবি বিজেপির, রেকর্ড মার্জিনের বার্তা শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির আত্মবিশ্বাস, ৬ অক্টোবর ভোটের আগে জমছে রাজনৈতিক লড়াই

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর আত্মবিশ্বাসী বার্তা


পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করার পরই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, নন্দীগ্রামে রেকর্ড ব্যবধানে এবং রেজিনগরে স্বচ্ছন্দে জয় পেতে পারে পদ্ম শিবির। তবে আপাতত এগুলি বিজেপির রাজনৈতিক দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের আগে যার বাস্তবতা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শুরু হবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৭ সেপ্টেম্বর হবে মনোনয়নপত্র যাচাই এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। দুই কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট জেলায় ইতিমধ্যেই Model Code of Conduct কার্যকর হয়েছে।

নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। পরে ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেন। নন্দীগ্রামে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ভবানীপুরেও তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটে হারান।

এই ফলের পর নন্দীগ্রামকে নিজেদের শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি। মঙ্গলবার রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের সমর্থন বিজেপির দিকে রয়েছে এবং নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই দল বড় ব্যবধানে জিতবে। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীও রেজিনগরে স্বচ্ছন্দ জয় এবং নন্দীগ্রামে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

রেজিনগরের পরিস্থিতি অবশ্য নন্দীগ্রামের থেকে আলাদা। এই আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী বাছাই, সংগঠন মজবুত করা এবং প্রচার কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা বাড়বে। নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক প্রভাব এবং আগের নির্বাচনের ফল বিজেপির প্রচারে বড় হাতিয়ার হতে পারে। অন্যদিকে রেজিনগরে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং বিভিন্ন দলের সাংগঠনিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নন্দীগ্রাম নিয়ে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে ফের বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা উচিত।

সব মিলিয়ে, উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি নিজেদের জয়ের বিষয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছে। কিন্তু ভোট এখনও প্রায় এক মাস দূরে। প্রার্থী তালিকা, প্রচারের গতি, স্থানীয় সমীকরণ এবং ভোটারদের শেষ মুহূর্তের মনোভাব—এই সবকিছুর উপর নির্ভর করবে ৬ অক্টোবরের ভোটের ফলাফল। তাই বিজেপির বড় জয়ের দাবি আপাতত রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ; নিশ্চিত ফলাফল নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!