পশ্চিমবঙ্গে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা
নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, উত্তাল সমুদ্র; ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ
বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপের প্রভাবে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বর্ষা পরিস্থিতি। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের কাছে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সেটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
IMD-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে কয়েকটি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এর ফলে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া, রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং শহর ও গ্রামীণ এলাকায় সাময়িক জনদুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অতিবৃষ্টির সময় নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পরামর্শ মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও নজরে রয়েছে। IMD-এর পূর্বাভাসে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির ফলে রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
তবে শুধু বৃষ্টি নয়, এবারের আবহাওয়া ব্যবস্থায় সমুদ্র পরিস্থিতিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। IMD কলকাতার মৎস্যজীবীদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে ১৩ আগস্ট ৫০-৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া, যা ঝোড়ো হাওয়ায় ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বাতাসের গতি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে Local Cautionary Signal No. 3 এবং সাগরদ্বীপ বন্দরে Sectional Signal No. 1 জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ১৩ আগস্ট রাত পর্যন্ত দীর্ঘ-period swell wave-এর সম্ভাবনাও জানানো হয়েছে। ফলে সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন ও নৌযান চলাচলেও সতর্কতা জরুরি।
আবহাওয়া দফতরের এই পূর্বাভাসে স্পষ্ট, নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার দাপট আপাতত কমার সম্ভাবনা নেই। ১৪ ও ১৫ আগস্টও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আবহাওয়ার সরকারি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্র এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের সামনে প্রধান আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও IMD-এর সর্বশেষ নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ।

