হরমুজ নিয়ে ফের কড়া অবস্থান ট্রাম্পের, ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি
শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা, বাড়ছে তেলের দাম, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ফের অনিশ্চয়তা। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় স্বাভাবিক করা নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই অবস্থান সামনে আসার পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ে নিহত ও আহতদের জন্য তেহরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইরানও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিভিন্ন শর্তের কথা জানিয়েছিল। ফলে শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের অবস্থানই এখন কঠোর।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীতে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকুচিত।
জাহাজ চলাচল কমার পাশাপাশি হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেল রফতানিও কমেছে। Reuters-এর হিসাবে, আগের সপ্তাহের দৈনিক প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে। মঙ্গলবার Brent crude-এর দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯.৬৪ ডলার হয়েছে। মার্কিন WTI-র দামও বেড়ে হয়েছে ৮৪.০৪ ডলার। এর আগের দিনও তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পরিবহণ হয়। ফলে দীর্ঘদিন এই পথের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেলের দাম, পরিবহণ খরচ এবং মূল্যস্ফীতির উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং ইরানের পাল্টা শর্তের কারণে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত। আগামী দিনে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গতিপথের উপরই বিশ্ব জ্বালানি বাজারের বড় অংশের নজর থাকবে।

