Sanjay Kapoor: ‘সিরফ তুম’-এর পরও কেন ছবি পাননি অভিনেতা? জানালেন Bollywood Career-এর অজানা গল্প

NEWS INDIA বাংলা
0

‘সিরফ তুম’ হিট, তবু এক বছর ছবির অফার নেই! কেন থমকে গিয়েছিল সঞ্জয় কাপুরের কেরিয়ার?

‘সিরফ তুম’-এর সাফল্যের পরও কেন কাজ পাননি সঞ্জয় কাপুর? নিজেই জানালেন বলিউডের সেই কঠিন সময়ের কথা

অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরের Bollywood Career এবং Sirf Tum ছবির স্মরণীয় সময়


নয়ের দশকের বলিউডে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেও নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে পারেননি সঞ্জয় কাপুর। বিশেষ করে ১৯৯৯ সালের ‘সিরফ তুম’ (Sirf Tum) তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ছবি হয়ে উঠলেও, সেই সাফল্যের পর যে ভাবে একের পর এক ছবির প্রস্তাব তাঁর কাছে আসবে বলে তিনি ভেবেছিলেন, বাস্তবে তা হয়নি। বরং ছবিটি সফল হওয়ার পরও প্রায় এক বছর নতুন কোনও ছবিতে সই করতে পারেননি অভিনেতা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফের সেই কঠিন সময়ের কথা উঠে এসেছে।

সঞ্জয় কাপুরের অভিনয়জীবন শুরু ১৯৯৫ সালে। তিনি অনিল কাপুরের ভাই এবং প্রযোজক বনি কাপুরের ছোট ভাই। ফলে বলিউডের পরিচিত কাপুর পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘিরে প্রত্যাশা ছিল যথেষ্ট। ‘রাজা’, ‘সিরফ তুম’-সহ বেশ কিছু ছবিতে কাজ করলেও তাঁর কেরিয়ার কখনও অনিল কাপুরের মতো ধারাবাহিক গতি পায়নি। বরং সাফল্য এবং ব্যর্থতার মাঝেই তাঁকে দীর্ঘ সময় নিজের জায়গা ধরে রাখতে হয়েছে।

‘সিরফ তুম’-এর সাফল্যের ঘটনাটিই তাই তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় অদ্ভুত অধ্যায়গুলির একটি। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল সালমান খান ও করিশ্মা কাপুর অভিনীত ‘বিবি নম্বর ওয়ান’-এর পর এবং সালমানের ‘হাম দিল দে चुके সনম’-এর আগে। অর্থাৎ বক্স অফিসে দুই বড় সালমান-ছবির মাঝখানে মুক্তি পেয়েও ‘সিরফ তুম’ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা তৈরি করেছিল। কিন্তু সঞ্জয়ের দাবি, ছবির সাফল্যের জন্য তিনি প্রত্যাশিত কৃতিত্ব পাননি।


সঞ্জয় জানিয়েছেন, আজকের দিনে কোনও অভিনেতার একটি বড় হিট ছবি হলে বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং নতুন ছবির প্রস্তাবের বন্যা নেমে আসে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে ‘সিরফ তুম’-এর পর তেমনটা হয়নি। এমনকি তিনি জানিয়েছেন, ছবিটি সফল হওয়ার পরও তিনি একটি ছবিতে সই করতে পারেননি। এই পরিস্থিতি তাঁকে যথেষ্ট অবাক করেছিল। তাঁর কথায়, কোনও কিছু খারাপ হলে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে সঞ্জয়ের বক্তব্যে এমন কোনও নিশ্চিত দাবি নেই যে প্রযোজকরা শুধু তাঁর বেশি পারিশ্রমিকের দাবির কারণে তাঁকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। বরং তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর কাছে ভালো এবং আকর্ষণীয় চরিত্রের প্রস্তাবই খুব কম আসত। পরবর্তী সময়ে তিনি এমন কাজ বেছে নিতে শুরু করেন, যেখানে চরিত্রের দৈর্ঘ্যের চেয়ে কাজটির মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বড় চরিত্রের চেয়ে অর্থবহ চরিত্র তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কেরিয়ারের এক পর্যায়ে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দিকেও ঝুঁকেছিলেন সঞ্জয়। তাঁর কথায়, তখন যে ধরনের প্রস্তাব আসছিল, সেগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছিল না। পরে OTT-র উত্থান তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসকে নতুন সুযোগ দেয়। ‘লাস্ট স্টোরিজ’, ‘দ্য গন গেম’, ‘দ্য ফেম গেম’, ‘মেরি ক্রিসমাস’-এর মতো কাজের মাধ্যমে তিনি নতুন করে প্রশংসা পান।

ফলে সঞ্জয় কাপুরের কেরিয়ার থমকে যাওয়ার গল্পটি শুধুই কোনও একটি ছবির ব্যর্থতার গল্প নয়। বরং একটি সফল ছবির পরও প্রত্যাশিত স্বীকৃতি না পাওয়া, সঠিক সময় ও সুযোগের অভাব এবং দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প। আজকের দিনে পিছনে তাকিয়ে সেই কঠিন সময়কেই নিজের অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!