ইউক্রেন-রাশিয়া: কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

NEWS INDIA বাংলা
0

 

ইউক্রেন-রাশিয়া: কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

বেসামরিক জাহাজ ও বন্দরকে হামলার বাইরে রাখার উদ্যোগ, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা বন্ধ করতে রাশিয়ার কাছে পারস্পরিক সমঝোতার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইউক্রেন। তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে মস্কোর কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে বলে Reuters-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি আসেনি। ফলে এটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সম্ভাব্য একটি সামুদ্রিক সমঝোতার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দরগুলির উপর হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে হামলার অভিযোগ তুলেছে। ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের বন্দরগুলিতে রুশ হামলার পাশাপাশি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কেও ইউক্রেনীয় হামলা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের শস্য পরিবহণ ও রফতানি কার্যক্রম বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি নিয়ে। দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদক ও রফতানিকারক। কৃষ্ণসাগর ইউক্রেনের কৃষিপণ্য বিদেশে পাঠানোর প্রধান পথগুলির একটি। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে ইউক্রেনের শস্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছে। ফলে কৃষক থেকে শুরু করে রফতানিকারক এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজার, সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।

যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলির পাশাপাশি বিকল্প রফতানি পথও সমস্যায় পড়েছে। রেলপথ এবং দানিয়ুব নদীপথ ব্যবহার করে শস্য পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সেগুলির সক্ষমতা সীমিত। তার উপর দানিয়ুব নদীর জলস্তর কমে যাওয়া এবং পরিকাঠামোর উপর হামলা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। শস্য উৎপাদন হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই ফসল বিক্রি করে দেওয়ার চাপ তৈরি হচ্ছে। Reuters-এর এক প্রতিবেদনে কৃষিখাতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। রফতানি বন্ধ থাকলে শুধু বর্তমান ফসল নয়, পরবর্তী মরসুমের বীজ, সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই সংকটের প্রভাব ইউক্রেনের সীমানার বাইরেও পড়তে পারে। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ ইউক্রেনের শস্যের উপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘদিন সমুদ্রপথে রফতানি ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ এবং বাজারদরের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। রাশিয়াও বিশ্বের অন্যতম বড় গম রফতানিকারক হওয়ায় কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলিতে যেকোনও বড় ধরনের বিঘ্ন বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্কও উদ্বেগ জানিয়েছে। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান রাশিয়া ও ইউক্রেনকে এই অঞ্চলে হামলা বন্ধ করতে একটি ‘moratorium’ বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কৃষ্ণসাগরে প্রবেশের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

তবে বড় বাধা দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইউক্রেনের প্রস্তাব তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পৌঁছেছে বলে জানা গেলেও রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেছেন, মস্কো এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক কৃষ্ণসাগর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পায়নি।

ফলে আপাতত নজর রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল এবং শস্য রফতানিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। কিন্তু রাশিয়া সম্মত না হলে কৃষ্ণসাগরে সংঘাত এবং তার প্রভাব আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে আরও গভীর হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!