বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এবার সেই বিতর্কের মাঝেই রাজ্যসভায় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোট ২৩টি দেশ সফর করেছেন। এই সফরগুলির আনুষ্ঠানিক ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা।
রাজ্যসভায় এই তথ্য জানতে চেয়েছিলেন সঞ্জয় সিং এবং ভি শিভাদাসন। তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রক বছরভিত্তিক ও দেশভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের সফরের তালিকায় ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, চিন, জাপান, সৌদি আরব, ব্রাজিল, মরিশাস, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কানাডা-সহ একাধিক দেশ। দেশভিত্তিক ব্যয়ের মধ্যে ফ্রান্স সফরে প্রায় ২৫.৬০ কোটি টাকা, ব্রাজিলে ১৭.৭২ কোটি টাকা, আমেরিকায় ১৬.৫৫ কোটি টাকা এবং চিন সফরে ১০.৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে প্রায় ৭৪.৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে চলতি বছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৪ সালে প্রায় ১০৯ কোটি, ২০২৩ সালে ৯৩ কোটি, ২০২২ সালে ৫৫.৮২ কোটি এবং ২০২১ সালে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়।
কেন্দ্রের দাবি, বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র কূটনৈতিক বৈঠক নয়। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং শক্তি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময়ে ৩১৬টি সমঝোতা স্মারক (MoU) ও বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এসেছে বলেও কেন্দ্র দাবি করেছে।
যদিও সরকার এই সফরগুলিকে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেছে, বিরোধীদের প্রশ্ন, এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের প্রত্যক্ষ সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছেছে, তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।

