বছরে মাত্র একদিন খোলে মন্দিরের দরজা, নাগপঞ্চমীতে কেন নামে ভক্তের ঢল?
বছরের ৩৬৪ দিন বন্ধ থাকে এই রহস্যময় মন্দির! নাগপঞ্চমীর দিন মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য খুলে যায় দরজা। সাপের ফণার ওপর আসন পেতে বসে রয়েছেন দেবাদিদেব শিব। জানেন কোথায় রয়েছে এই মন্দির?
বছরের ৩৬৪ দিন বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা। ৩৬৫তম দিনে, বিশেষ এক তিথিতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য খুলে দেওয়া হয় সেই রহস্যময় মন্দির। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির চত্বরে অবস্থিত শ্রীনাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে এমনই এক প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস।
মহাকালেশ্বর মন্দিরের তৃতীয় তলায় অবস্থিত এই মন্দিরের দরজা সাধারণত সারা বছর বন্ধ থাকে। শ্রাবণ মাসের নাগপঞ্চমী তিথিতে বিশেষ পুজোর পর মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। নাগপঞ্চমীর দিন দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে এসে পুজো দেন এবং নাগচন্দ্রেশ্বরের দর্শন করেন।
মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল এখানকার দেবমূর্তি। কষ্টিপাথরের মূর্তিতে দেবাদিদেব মহাদেবকে দেখা যায় নাগরাজের ফণার উপর উপবিষ্ট অবস্থায়। তাঁর পাশে রয়েছেন দেবী পার্বতী এবং গণেশ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের এই সর্পাসনে উপবিষ্ট রূপ অত্যন্ত বিরল।
স্কন্দপুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, নাগরাজ তক্ষক মহাদেবের কঠোর তপস্যা করে অমরত্ব লাভ করেছিলেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে থাকার বর দেন। সেই থেকেই এই স্থানের সঙ্গে নাগরাজ তক্ষকের নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।
ভক্তদের একাংশের বিশ্বাস, নাগচন্দ্রেশ্বরের দর্শন করলে কালসর্প দোষের (Kaal Sarp Dosha) প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাবও প্রশমিত হয়। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস, এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চলতি বছর ১৭ আগস্ট নাগপঞ্চমী উপলক্ষে বিশেষ পুজোর পর মন্দিরের দরজা খোলার কথা রয়েছে। নাগপঞ্চমীর এই বিশেষ দিনে দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত উজ্জয়িনীতে ভিড় করেন।
উজ্জয়িনী পৌঁছতে রেলপথে সরাসরি উজ্জয়িনী জংশনে যাওয়া যায়। আকাশপথে নিকটবর্তী ইন্দোর বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে উজ্জয়িনী পৌঁছনো সম্ভব। ধর্মীয় বিশ্বাস, পৌরাণিক কাহিনি এবং বিরল স্থাপত্যের কারণে নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির আজও ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

.png)