প্যারাসিটামল খেলেও বর্ষার জ্বর কমছে না? যে ভুলগুলি এড়াবেন

NEWS INDIA বাংলা
0


বর্ষায় জ্বর কমছে না? প্যারাসিটামল খেলেও কেন থাকছে সমস্যা, জানুন কী করবেন

বর্ষা শুরু হতেই জ্বরের প্রকোপ! প্যারাসিটামল খেয়েও জ্বর কমছে না? দীর্ঘক্ষণ জ্বর থাকলে কী করবেন, কোন ভুলগুলো এড়াবেন এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, জেনে নিন।

বর্ষার জ্বর ও ডেঙ্গু সতর্কতা, Monsoon Fever Health Tips


 বর্ষা শুরু হতেই জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে। টানা কয়েকদিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা মাথাব্যথায় নাজেহাল অনেকেই। প্যারাসিটামল খাওয়ার পরও যদি জ্বর বারবার ফিরে আসে বা কয়েকদিনেও না কমে, তাহলে সেটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

বর্ষাকালে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া-সহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

অনেকেই মনে করেন, প্যারাসিটামল খেলেই জ্বরের মূল কারণ দূর হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে প্যারাসিটামল মূলত জ্বর ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, সংক্রমণের কারণের চিকিৎসা করে না। তাই ওষুধ খাওয়ার পরও জ্বর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

জ্বরের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরে পানির ঘাটতি না হতে দেওয়া। জল, ওআরএস, ডাবের জল বা অন্যান্য উপযুক্ত তরল পান করতে পারেন। ডিহাইড্রেশন এড়ানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অসুস্থ অবস্থায় অতিরিক্ত পরিশ্রম, বাইরে ঘোরাঘুরি কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়াও শরীরের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই জ্বর থাকলে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।



বিশেষ করে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। WHO-র পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ডেঙ্গুতে জ্বর কমে গেলেই সবসময় সুস্থ হয়ে যাওয়ার অর্থ নয়। জ্বর কমার পরেও তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক তৃষ্ণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

তাই বর্ষায় জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামলের উপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!