গুসকরায় বাসপিছু ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ, গেরুয়া কুপন ঘিরে বিতর্ক

NEWS INDIA বাংলা
0

 

Guskara bus stand bus 30 taka collection BMS coupon controversy

পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা বাসস্ট্যান্ডে বাসপিছু অতিরিক্ত ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, চলতি মাসের শুরু থেকে বাসস্ট্যান্ডে ঢোকা প্রতিটি বাসের কাছ থেকে পুরসভার নির্ধারিত প্রবেশ ফি-র পাশাপাশি আরও ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই টাকা দেওয়ার পর গেরুয়া পতাকার ছবি দেওয়া একটি কুপন দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি বাসকর্মীদের।

বাসকর্মীদের অভিযোগ, গুসকরা বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার জন্য আগে থেকেই পুরসভার পক্ষ থেকে বাসপিছু প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা প্রবেশ ফি নেওয়া হয়। সরকারি কুপনের মাধ্যমে সেই টাকা সংগ্রহ করেন পুরসভার কর্মীরা। কিন্তু গত চার-পাঁচ দিন ধরে এর পাশাপাশি আরও ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক বাসকর্মী অনন্ত বাগদীর দাবি, পুরসভার নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে গেরুয়া পতাকার ছবি দেওয়া একটি কুপন দেওয়া হচ্ছে। তবে সেই কুপনে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা শ্রমিক সংগঠনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের জবাবে ভারতীয় মজদুর সংঘের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি মাধব দাস দাবি করেছেন, বিষয়টিকে তোলাবাজি বলা ঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য, জেলা বা কেন্দ্রীয় BMS সরাসরি কোনও টাকা নিচ্ছে না। গুসকরা বাসস্ট্যান্ডে পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ন্যূনতম খরচ মেটাতে অনুমতি নিয়ে অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাস চলাচল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার কাজে যুক্ত কর্মীদের পারিশ্রমিক হিসেবেই এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপান-উতোরও শুরু হয়েছে। বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদল হলেও বাসস্ট্যান্ডে অর্থ আদায়ের অভিযোগের ছবি বদলায়নি। আগে যে সংগঠনের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠত, এখন অন্য সংগঠনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে বলে দাবি তাদের।

তবে BMS নেতৃত্ব এই অভিযোগ মানতে নারাজ। ফলে এখন মূল প্রশ্ন, বাসপিছু অতিরিক্ত ৩০ টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে কি না এবং সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কুপনে কোনও সংগঠনের নাম না থাকার বিষয়টিও আলাদা করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রশাসনের তরফে চূড়ান্ত তদন্ত বা সিদ্ধান্ত সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই থাকছে। তবে গুসকরা বাসস্ট্যান্ডের এই ঘটনা সরকারি পরিবহণ পরিকাঠামোয় শ্রমিক সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!