ডুরান্ডে আজ ইস্টবেঙ্গলের অগ্নিপরীক্ষা, কোয়ার্টারে Indian Army-র বিরুদ্ধে জিতলেই সেমিফাইনাল
যুবভারতীতে আজ ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল, Indian Army-কে হারিয়ে শেষ চারে উঠতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল
ডুরান্ড কাপের নকআউট পর্বে আজ, রবিবার সন্ধ্যায়, গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামছে ইস্টবেঙ্গল। কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সন্ধ্যা ৭টায় লাল-হলুদের প্রতিপক্ষ Indian Army FT। এই ম্যাচের ফল সরাসরি নির্ধারণ করবে শেষ চারে কে পৌঁছবে। ফলে গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশ পিছনে ফেলে দুই দলই নামবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে।
১৩৫তম ডুরান্ড কাপের এবারের আসরে মোট ২৪টি দল অংশ নিয়েছে। ছয়টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্স-আপ মিলিয়ে আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে। ইস্টবেঙ্গল সেই সেরা দুই রানার্স-আপের একটি। গ্রুপ পর্বে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে হার দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে লাল-হলুদ।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে রয়েছে কঠিন প্রতিপক্ষ। Indian Army FT গ্রুপ বি-তে তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ আটে উঠেছে। ফলে টুর্নামেন্টে এখনও অপরাজিত থাকা সেনাবাহিনীর দল আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। তাদের সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সেট-পিস পরিস্থিতি ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে বাড়তি নজর থাকবে নতুন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কৌশলের দিকে। ডুরান্ড কাপের পাশাপাশি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আল-আরাবির বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। নকআউট ম্যাচে সেই আক্রমণাত্মক ছন্দ কতটা ধরে রাখতে পারে লাল-হলুদ, সেটাই বড় প্রশ্ন।
দলের আক্রমণভাগে মহম্মদ রশিদ ও জেসিন টিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। বিশেষ করে মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল তুলে এনে Indian Army-র রক্ষণকে চাপে রাখা ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে Indian Army-র ক্রিস্টোফার কামেই সেট-পিসে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। তাই ফাউল এড়ানো এবং ডেড-বল পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকাও হাবাসের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দলগত পরিস্থিতিতেও ইস্টবেঙ্গলকে কিছুটা সতর্ক থাকতে হচ্ছে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো মন্সালভে চোটের কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না। মহম্মদ রশিদের হালকা ক্র্যাম্প থাকলেও তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত বলে ম্যাচ-পূর্ব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বরিস সিং এবং দানিশ ফারুকও চোট কাটিয়ে ফেরার পথে রয়েছেন।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাসও ম্যাচটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। ডুরান্ড কাপে এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ২০০২-০৩ মরসুমের ফাইনালে তৎকালীন Army XI-কে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই জয়েই ১৫তম ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলেছিল লাল-হলুদ। বর্তমানে অবশ্য Indian Army FT একটি শক্তিশালী দল হিসেবেই কোয়ার্টারে উঠেছে, তাই পুরনো রেকর্ডের উপর ভরসা করে এগোনোর সুযোগ নেই।
ইস্টবেঙ্গলের জন্য আরও একটি বড় প্রেরণা তাদের ঐতিহ্য। ক্লাবটি ডুরান্ড কাপ জিতেছে ১৬ বার। এবার সেই সংখ্যাকে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথম বাধা পেরোতে হবে আজ। Indian Army-কে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে SC Delhi ও FC Raengdai-এর কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ।
যুবভারতীর গ্যালারিতে সমর্থকদের আবেগও ইস্টবেঙ্গলের বাড়তি শক্তি হতে পারে। তবে নকআউট ফুটবলে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত এবং ভুলের সংখ্যা কম রাখা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। আজ সন্ধ্যা ৭টার লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, ডুরান্ড কাপের ট্রফির দৌড়ে ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী বড় পরীক্ষাও।

