তেলের দাম ফের ৯০ ডলারের কাছাকাছি, ভারতের অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ
হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা, রুপির দরপতন ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বাজার
আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সংশয়ের জেরে মঙ্গলবার Brent crude-এর দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৯.৮০ ডলারে পৌঁছয়। সোমবারও Brent-এর দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৭.৭২ ডলারে বন্ধ হয়েছিল। ফলে ফের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বিশ্ব তেলবাজারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন তেলের দাম চড়া থাকলে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। পাশাপাশি ডলারের তুলনায় রুপির উপরও চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার রুপি প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে প্রতি ডলারে ৯৫.৪৩৫০-এ বন্ধ হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রুপির দুর্বলতা একসঙ্গে চললে আমদানিকারকদের খরচ আরও বাড়ে। এর প্রভাব পরিবহণ, বিমান পরিষেবা, শিল্প উৎপাদন এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে পড়তে পারে। পরোক্ষভাবে অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবার দামেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে crude-এর দাম বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়বে, এমন নয়। দেশীয় জ্বালানির খুচরো মূল্য নির্ধারণে কর, সরকারি নীতি এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মূল্য কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এই মুহূর্তে বাজারের অন্যতম নজর হরমুজ প্রণালীর দিকে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথগুলির মধ্যে অন্যতম এই জলপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। ফলে তেলের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।
এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। Reuters-এর ৪০ জন অর্থনীতিবিদের সমীক্ষা অনুযায়ী, জুলাইয়ে ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতি ৪.৫০ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জুনে এই হার ছিল ৪.৩৮ শতাংশ।
অর্থাৎ, Brent crude-এর দাম ৮৮-৯০ ডলারের আশপাশে থাকা ভারতের জন্য শুধু জ্বালানির বাজারের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমদানি ব্যয়, রুপির দর, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। আগামী দিনে হরমুজ প্রণালী এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতির উপরই বাজারের নজর থাকবে।

