সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর অনশন ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা-র সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিনিধি দলের বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
হাসপাতাল থেকেই হাতে লেখা এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের দাবি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সংসদে গিয়ে সাংসদদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে অথবা সাংসদদের হাসপাতালে এসে তাঁদের বক্তব্য শুনতে হবে। এর আগে অনশন ভাঙার প্রশ্নই নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিকে দিল্লিতে শিক্ষাব্যবস্থা ও NEET-সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। সিজেপি প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে একাধিক দাবিপত্র তুলে দেন। যদিও বৈঠকের পর কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হয়নি। ফলে আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট-এ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুনানি হয়। আদালত চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ নথি ও মেডিক্যাল বুলেটিন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর আবেদন ঘিরেই এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, ডিহাইড্রেশন, শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে ১৮ জুলাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি অনশন অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনের মূল দাবি থেকে সরে আসা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দল। এখন সরকারের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি, আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দিকেই নজর রয়েছে।

