রাজনীতিতে চমক, বিতর্কে উত্তেজনা, নারী স্বাধীনতার বার্তা দিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: বাংলা ও বাঙালির অস্মিতা নিয়ে বরাবর সোচ্চার বাংলার শাসক দল। তবে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ বাবুল সুপ্রিয় ও কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা এবং তেলেঙ্গানার মেনকা গুরুস্বামী ও উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের রাজীব কুমারকে সামনে আনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বরাবরই নারী স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে সরব থেকেছেন। সেই ধারাতেই এবার সমকামী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি দেশের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পরিচয়ের সাংসদদের একজন হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
মেনকা গুরুস্বামী একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী, যিনি ভারতের LGBTQIA+ সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর এবং তাঁর সঙ্গী অরুন্ধতী কাটজুর নেতৃত্বে ৩৭৭ ধারাকে ‘ডিক্রিমিনালাইজ’ করার জন্য যে আইনি লড়াই হয়েছে, তা ভারতীয় অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। আরএসএস (RSS)-এর তাত্ত্বিক এবং বাজপেয়ী আমলের অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিংহের উপদেষ্টা মোহন গুরুস্বামীর কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তিনি পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজস্ব সামাজিক অবস্থান গড়ে তুলেছেন। নিজের পেশাদারি দক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃতীয় লিঙ্গ ও সমকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হওয়া অপমানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধেও তিনি সরব থেকেছেন। মেনকাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত নারীর অধিকার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নিজের জীবন ও শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।
দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। এর আগেও ২০২১ সালের উপনির্বাচনের সময় তাঁর স্বামী নিসপাল সিং রানেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। টলিউডে একের পর এক সফল ছবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও সংসারের ভারসাম্য বজায় রেখেছেন তিনি। এবার তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করলেন কোয়েল।
সংগীত জগতে সাফল্যের পর রাজনীতির মাটিতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বাবুল সুপ্রিয়। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে চাকরি করতেন। পরে সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে মুম্বইয়ে পাড়ি দেন। সংগীতের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। সাত বছর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী থাকার পর বিরোধী শাসক দলে যোগদান করেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
১৯৮৯ সালে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডার থেকে আইপিএস হিসেবে যোগ দিলেও তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফ (STF) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁর বাড়িতে সিবিআই হানা এবং তার পর মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

