দিল্লিতে মোদী ও কার্নির বৈঠক, প্রতিরক্ষা ইউরেনিয়াম ও এআই সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:দিল্লিতে বৈঠকে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। জানা গিয়েছে, এই সাক্ষাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পারমাণবিক শক্তি ও ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। সিভিল নিউক্লিয়ার এনার্জির জন্য ইউরেনিয়ামের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে কানাডার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে মার্ক কার্নি বলেন, গত ২০ বছরে কানাডা ও ভারতের মধ্যে যত আলোচনা হয়েছে, তার তুলনায় গত এক বছরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা ও সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, সেখানে ভারতের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট। ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। তিনি উল্লেখ করেন, দুটি গণতান্ত্রিক দেশ যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন শান্তির বার্তা আরও জোরালো হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
শুধু জ্বালানি বা প্রতিরক্ষা নয়, প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কানাডার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও উদ্ভাবনমূলক গবেষণার ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে গবেষণা, একাডেমিক বিনিময় ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
ক্রিটিক্যাল মিনারেল, হাইড্রোকার্বন, গ্রিন হাইড্রোজেন ও এনার্জি স্টোরেজ ক্ষেত্রেও সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সুপারকম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

