কলকাতায় ৩৪ ডিগ্রি পারদ মার্চেই গরম বাড়ায় সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা
নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই তিলোত্তমা শহরসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দ্রুত বাড়ছে তাপমাত্রা। বসন্তের বিদায়ঘণ্টা যেন সময়ের আগেই বেজে গেছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদদের একাংশ।
শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার রাস্তায় বেরোলেই টের পাওয়া যাচ্ছে সূর্যের তীব্র তেজ। India Meteorological Department-এর আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এদিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি।
তবে বাতাসে আর্দ্রতার কারণে গরমের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বাস্তবে গরম অনুভূত হচ্ছে প্রায় ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।
দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বর্তমানে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। কলকাতায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ হওয়ায় রোদে বেরোলেই ঘাম ও অস্বস্তি বাড়ছে।
Howrah, Hooghly, North 24 Parganas, South 24 Parganas এবং Purba Medinipur জেলায় আকাশ পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের দিকে কিছু জায়গায় গরম বাতাস বইতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি আরও কঠিন। Purulia, Bankura এবং Birbhum জেলায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে পারদ সামান্য আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১০ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অতিবেগুনি রশ্মির সূচক বা ইউভি ইনডেক্স এদিন ৬-এর ঘরে রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম—প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি।
দক্ষিণবঙ্গ যখন গরমে পুড়ছে, তখন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে মনোরম রয়েছে। Darjeeling এবং Kalimpong-এ সকালবেলায় হালকা কুয়াশা থাকলেও দুপুরের দিকে রোদ ঝলমলে আকাশ দেখা যেতে পারে।
তবে সিকিম সংলগ্ন এলাকায় উত্তর-পশ্চিমী বায়ুর প্রভাবে বিকেলের দিকে সামান্য মেঘের সঞ্চার হতে পারে। সমতলের শহর যেমন Siliguri বা Jalpaiguri-তেও গরমের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে।
সাধারণত মার্চ মাসে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে বিকেলের দিকে কালবৈশাখীর মেঘ তৈরি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তরে কোনও নিম্নচাপ অক্ষরেখা বা ঘূর্ণাবর্তের লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
ফলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বৃষ্টির বড় কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা বেশি থাকায় চিকিৎসকরা সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত জল পান করা, বাইরে বেরোলে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা এবং রোদ এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ।

