দোলের আকাশে চন্দ্রগ্রহণ, সূতক নিয়ে সতর্কবার্তা—জেনে নিন সময় ও নিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:আজ দোল পূর্ণিমা। আর এবছর দোলের দিনই জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঘটতে চলেছে এক বিশেষ চন্দ্রগ্রহণ। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ, দোল উৎসবের দিন এই গ্রহণের ঘটনা ঘটবে বলে জানা গিয়েছে। ধর্মীয় ও জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তমহলে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, গ্রহণের আগে যে অশুভ সময়ের সূচনা হয়, তাকে সূতক বলা হয়। সাধারণত চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে সূতক শুরু হয় গ্রহণের প্রায় নয় ঘণ্টা আগে এবং গ্রহণ শেষ হলে সূতকের অবসান ঘটে। এই সময়কে অনেকেই আধ্যাত্মিকভাবে সংবেদনশীল পর্ব বলে মনে করেন।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কেবলমাত্র প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এর একটি আধ্যাত্মিক তাৎপর্যও রয়েছে। উৎসবের দিনে গ্রহণ পড়লে তা শুভ ও অশুভ দিক নিয়ে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দেয়। ফলে ভক্তদের মধ্যে একধরনের সতর্কতা ও সচেতনতার পরিবেশ তৈরি হয়।
জানা গিয়েছে, বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে।
সূতক ও গ্রহণকালে যা এড়িয়ে চলবেন:
• ঠাকুরের মূর্তি স্পর্শ করবেন না এবং ঠাকুরঘরের দরজা বন্ধ রাখুন।
• বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশনসহ যে কোনও শুভ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখুন।
• বিশ্বাস অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
• গ্রহণকালে তুলসী গাছ স্পর্শ করবেন না।
যা করা উচিত:
• মনে মনে ইষ্টদেবতার নাম জপ করুন।
• মনকে শান্ত রাখতে ধ্যান করুন।
• গ্রহণ শেষে অভাবী ব্যক্তিকে দান করুন।
• সূতক শুরুর আগে রান্না করা খাবারে তুলসী পাতা রেখে দিন—অনেকে এটি পালন করেন।
একদিকে দোলের রঙিন উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে গ্রহণের গাম্ভীর্য—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে দিনটি হয়ে উঠতে পারে বিশেষ তাৎপর্যময়। আনন্দের মধ্যেও সংযম ও সচেতনতা বজায় রাখাই শ্রেয় বলে মত ধর্মীয় মহলের।

