ফেব্রুয়ারির শেষেই আবহাওয়ার চমক—গরমের মাঝে বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা পশ্চিমবঙ্গে
নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এসে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার চরিত্র। শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে, আর তার জায়গায় জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে উষ্ণতা। তবে এই গরমের মধ্যেই নতুন করে চমক দিতে পারে বৃষ্টি। বঙ্গোপসাগরের (Bay of Bengal) উপর তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ পরিস্থিতি রাজ্যের আবহাওয়ায় সাময়িক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজ, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি), দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। কলকাতা সহ আশপাশের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। অন্যদিকে, রাতের তাপমাত্রাও আর শীতের মতো নামছে না—১৮ থেকে ২১ ডিগ্রির আশেপাশে থাকছে।
সকালের দিকে কিছু জায়গায় হালকা কুয়াশা (light fog) দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর ও সংলগ্ন এলাকায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে উপকূলীয় জেলাগুলিতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হালকা বৃষ্টি (light rain) এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে এই পরিবর্তন হতে পারে।
পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি—যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে—আবহাওয়া এখনও শুষ্ক থাকলেও দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি বাড়ছে। এই জেলাগুলিতে দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা ভাব বজায় থাকছে।
উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়া মোটামুটি স্থিতিশীল। দার্জিলিং সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় রাত এখনও শীতল, তবে সমতলের জেলাগুলিতে দিনের বেলায় আরামদায়ক আবহাওয়া থাকছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এসে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা আগামী দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসন্ন গ্রীষ্মের পূর্বাভাস (early sign of summer) হিসেবেও ধরা যেতে পারে।
তবে এই গরমের মাঝেই হঠাৎ বৃষ্টির সম্ভাবনা রাজ্যের আবহাওয়াকে কিছুটা অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের আগামী কয়েকদিন সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে এখন ‘শীতের বিদায় ও গরমের আগমনের’ মাঝামাঝি এক পরিবর্তনের সময় চলছে—যেখানে রোদ, মেঘ ও সম্ভাব্য বৃষ্টি একসঙ্গে আবহাওয়ার মেজাজ তৈরি করছে।

