ইরানে গণবিক্ষোভ ও যুদ্ধের আশঙ্কা—ভারতীয়দের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। একদিকে ইরানের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ, অন্যদিকে বাইরের শক্তিশালী দেশগুলোর সামরিক হুমকির মুখে পড়ে এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন তেহরান। এই ত্রিমুখী সাঁড়াশী চাপে পড়ে ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
পরিস্থিতি বিচার করে সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে এক সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরুরি অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও তীর্থযাত্রীসহ সমস্ত ভারতীয় নাগরিককে অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কেন এই চরম পদক্ষেপ? আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে ইরান।
ভারত সরকারের এই নির্দেশিকা হঠাৎ করে আসেনি। ৫ জানুয়ারি এবং ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ জারি করা পূর্ববর্তী সতর্কবার্তার রেশ ধরে আজকের এই চূড়ান্ত ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে আসছে।
২০২৬ সালের শুরুতে ইরান এক ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এর পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে।
২০২৫ সালের শেষভাগ থেকেই অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছায়। ২০২৬ সালের শুরুতে এই ক্ষোভ দেশব্যাপী গণআন্দোলনের রূপ নেয়। তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজসহ বড় শহরগুলোর রাজপথ এখন বিক্ষোভকারীদের দখলে। তরুণ প্রজন্ম প্রশাসনিক সংস্কার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দাবিতে সরাসরি সরকারের মুখোমুখি। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে সংঘাতময় করে তুলেছে। বহু জায়গায় ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া আল্টিমেটাম এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবহরের অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আকাশপথে হামলা শুরু হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কায় ভারত সরকার চাইছে বাণিজ্যিক ফ্লাইট সচল থাকতেই যেন ভারতীয়রা নিরাপদে দেশে ফিরে আসেন।
ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। যারা এখনও সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের জনসমাবেশ, মিছিল বা বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককে পাসপোর্ট, ভিসা, আইডি কার্ড ও অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সবসময় সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যারা এখনও দূতাবাসের ডেটাবেসে নাম নথিভুক্ত করেননি, তাদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানানো হয়েছে:
www.meaers.com/request/home�
ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হলে ভারতে অবস্থানরত পরিবার সদস্যরাও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন।
জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন নম্বর:
+98 912 810 9115
+98 912 810 9109
+98 912 810 9102
+98 993 217 9359
ইমেইল: cons.tehran@mea.gov.in
নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত সরকারের এই অ্যাডভাইজরি কেবল সতর্কবার্তা নয়—এটি সম্ভাব্য বড় সংকটের পূর্বাভাস। এখন সময়ের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

