নতুন ভোটার তালিকা এল পশ্চিমবঙ্গে — আপনার নাম কোন বিভাগে আছে, জানুন এখনই
নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ২০২৬ সালের মেগা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আজ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (শনিবার), রাজ্য জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision – SIR) পরবর্তী নতুন ভোটার তালিকা। তবে এবারের তালিকা আগের মতো নয়। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর যাচাইয়ের পর ভোটারদের তিনটি পৃথক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের জন্য নিজের নাম যাচাই করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
তালিকার তিনটি বিভাগ আপনি কোন শ্রেণিতে?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৭.০৮ কোটি ভোটারের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনটি বিভাগ তৈরি করা হয়েছে—
১. Approved: যাঁদের নথিপত্র সম্পূর্ণ সঠিক এবং যাঁরা সরাসরি ভোট দেওয়ার যোগ্য।
২. Deleted: মৃত্যু, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া অথবা ডুপ্লিকেট এন্ট্রির কারণে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
৩. Adjudication: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এটি। প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এই তালিকায় রয়েছে।
এই বিভাগে নাম থাকা মানে হলো সংশ্লিষ্ট ভোটারের নথি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।
কীভাবে যাচাই করবেন আপনার নাম?
আপনি নিচের যেকোনো পদ্ধতিতে নিজের স্ট্যাটাস জানতে পারেন—
ডিজিটাল মাধ্যমে: ECINET বা Voter Helpline অ্যাপে EPIC নম্বর দিলে আপনার নামের পাশে ‘Approved’, ‘Deleted’ অথবা ‘Adjudication’ স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
অনলাইনে: voters.eci.gov.in অথবা ceowestbengal.wb.gov.in পোর্টালে গিয়ে ‘Search by EPIC’ অপশন ব্যবহার করতে পারেন।
বিএলও ক্যাম্পে: আজ দুপুর ২টার পর থেকে রাজ্যের সমস্ত বুথে বিএলওরা হার্ড কপি নিয়ে বসবেন। সেখানে গিয়ে সরাসরি নিজের নাম যাচাই করা যাবে।
নাম না থাকলে বা ‘Deleted’ হলে কী করবেন?
যদি আপনার নাম তালিকায় না থাকে বা ‘Deleted’ হিসেবে দেখায়, তাহলে পুনরায় আবেদন করতে হবে।
Form 6: নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য।
এর সঙ্গে একটি বিশেষ ডিক্লারেশন বা Enumeration Form জমা দিতে হতে পারে, যেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্রের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
Form 8: নাম বা ঠিকানায় সংশোধনের জন্য।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখের ১০ দিন আগে পর্যন্ত আবেদন করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে—আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা উচিত। কারণ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২১ দিন সময় লাগে।
প্রয়োজনীয় নথি আপনাকে জমা দিতে হবে--পাসপোর্ট সাইজ ছবি,আধার কার্ড, প্রয়োজনে পারিবারিক ভোটার প্রমাণ ।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন—রাজনৈতিক দলগুলিকে পেনড্রাইভে তালিকার কপি দেওয়া হবে, সাধারণ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে হেল্পলাইন নম্বর ১৯৫০।
গণতন্ত্রের উৎসবে আপনার ভোটাধিকার রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিজের নামের সঠিক অবস্থান যাচাই করুন।

