দিল্লিগামী বন্দে ভারত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, ভাঙল কোচের কাচ
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: সেমি-হাইস্পিড বন্দে ভারত ট্রেনকে ঘিরে ফের সামনে এল নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বারাণসী থেকে দিল্লিগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ট্রেনের একটি কোচের কাচ ভেঙে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের হরদৌ জেলার কাছে পৌঁছানোর সময় দুপুর প্রায় ৩টা ২০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি ওই এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতি ট্রেনের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে।
পাথরের আঘাতে ট্রেনের সি৪ কোচের জানলার কাচ ভেঙে যায়। ঘটনাটি হঠাৎ ঘটে যাওয়ায় কোচের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ট্রেনেই যাত্রা করছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে। তার উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে প্রশাসন।
জিআরপি সূত্রে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনায় কোনো সুপরিকল্পিত নাশকতার যোগ নাও থাকতে পারে। তদন্তে উঠে এসেছে, রেললাইনের ধারে খেলছিল এমন ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী কয়েকজন নাবালক ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছিল।
তবে এই ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না রেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসার জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বন্দে ভারত ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা এই প্রথম নয়। অতীতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
এই ধারাবাহিক ঘটনার ফলে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির এই ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই নয়, ট্রেনের কাঠামোগত ক্ষতিও হতে পারে। দ্রুতগতির ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—আধুনিক রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

