ভ্যালেন্টাইনস ডে কেন পালিত হয়? প্রেম থেকে দাম্পত্য—ইতিহাসে লুকিয়ে ভালোবাসার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদন,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: আজকের ব্যস্ত ও সহিংসতার ভরা পৃথিবীতে ভালোবাসার গুরুত্ব যেন আরও বেশি করে অনুভূত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভ্যালেন্টাইন্স ডে—যা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার দিন নয়, বরং জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি বিশেষ উপলক্ষ।
চারিদিকে যখন হিংসা, অবিচার ও অস্থিরতার খবর ভেসে আসে, তখন ভালোবাসার একটি দিন মানুষকে মানবিকতার পাঠ মনে করিয়ে দেয়। প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভ্যালেন্টাইন্স ডে। ২০২৬ সালে এই দিনটি পড়েছে শনিবারে, ফলে সপ্তাহান্তে প্রিয়জনের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানোর সুযোগও মিলবে।
তবে ভ্যালেন্টাইন্স ডে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সেই সমস্ত মানুষের জন্য, যারা আমাদের জীবনে ভালোবাসা, সমর্থন ও শক্তির উৎস—হতে পারেন জীবনসঙ্গী, বন্ধু, পরিবার বা শিক্ষক। এই দিনে একটি আন্তরিক বার্তাই হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে যে একঘেয়েমিতা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতেও এই দিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। “তুমি শুধু আমার সঙ্গী নও, তুমি আমার ঘর”—এমন একটি বাক্য সম্পর্কের ভিতকে আরও দৃঢ় করতে পারে। প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্কের আসল সৌন্দর্য।
এই দিনটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি—ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে তৃতীয় শতাব্দীর রোমান যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে। সেই সময় রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিশ্বাস করতেন, অবিবাহিত যুবকরাই শ্রেষ্ঠ সৈনিক। তাই তিনি সেনাদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু যাজক ভ্যালেন্টাইন এই নিয়মের বিরোধিতা করে গোপনে সেনাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতেন।
এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে গেলে তাকে বন্দী করা হয়। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, বন্দিদশায় তিনি জেলারের অন্ধ কন্যাকে সুস্থ করে তুলেছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে তিনি ওই তরুণীকে একটি চিঠি লিখে যান, যার শেষে লেখা ছিল—“From Your Valentine”।
২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
প্রায় দুইশো বছর পর রোমান গির্জা পৌত্তলিক উৎসব লুপারকালিয়া বন্ধ করে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করে। মধ্যযুগের কবি জিওফ্রে চসারের লেখার মাধ্যমে এই দিনটি প্রেমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।
এরপর ইউরোপ জুড়ে প্রেমপত্র ও কবিতা আদান-প্রদানের প্রথা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে এটি বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা প্রকাশের দিনে পরিণত হয়।
আজকের দিনে ভ্যালেন্টাইন্স ডে কেবল একটি উৎসব নয়—এটি ভালোবাসার বহুমাত্রিক প্রকাশের দিন। এই দিন মানুষ প্রেম, কৃতজ্ঞতা ও সম্পর্কের মূল্যকে নতুন করে উপলব্ধি করে।
এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা কেবল রোম্যান্টিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জীবনের প্রতিটি বন্ধনের মধ্যেই তার অস্তিত্ব রয়েছে।

