রাজীব কুমার থেকে কোয়েল মল্লিক — রাজ্যসভায় তৃণমূলের চমক
একদিকে যখন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে রাজ্যসভার এই মনোনয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেন এই চারজনকেই বেছে নেওয়া হলো — তার নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ।
রাজীব কুমারের নাম উঠলেই মনে পড়ে ২০১৯ সালের সেই মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নার কথা। সারদা কাণ্ড থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক সংকটজনক মুহূর্তে তিনি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রশাসনিক স্তম্ভ।
সদ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে অবসর নেওয়া রাজীব কুমার এমন একজন আইপিএস অফিসার যিনি বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সুপরিচিত। দিল্লির রাজনীতিতে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, তখন তাঁর মতো অভিজ্ঞ প্রশাসনিক মস্তিষ্ক উচ্চকক্ষে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
তাঁকে সাংসদ হিসেবে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত দিল্লির রাজনীতিতে এক দক্ষ কৌশলীকে পাঠাতে চাইছেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
গায়ক থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বাবুল সুপ্রিয়ের রাজনৈতিক যাত্রা যথেষ্ট আলোচিত। আসানসোলের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন মন্ত্রী।
হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল দখল এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে রাজ্যসভায় দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক বিতর্কে তাঁর বাগ্মীতা দলের পক্ষে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বরাবরই বিতর্কহীন এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর অন্তর্ভুক্তি তৃণমূলের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরে প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।
সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং পারিবারিক ঐতিহ্য দলের জনসংযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই তালিকার অন্যতম চমক মেনকা গুরুস্বামী। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকার কর্মী। সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করার আইনি লড়াইয়ের অন্যতম মুখ হিসেবে তিনি পরিচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন তিনি। রাজ্যসভায় তাঁর উপস্থিতি আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্কে দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকায় স্পষ্ট — অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা এবং আইনি দক্ষতার মিশ্রণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল নেওয়া হয়েছে।
রাজীব কুমার ও মেনকা গুরুস্বামী প্রশাসনিক ও আইনি ক্ষেত্র সামলাতে পারেন, অন্যদিকে বাবুল সুপ্রিয় ও কোয়েল মল্লিক জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক আলোচনায় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই ‘চতুর্ভুজ’ কৌশল দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূলের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার প্রয়াস বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

