নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হয়েছে রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট। একদিকে যখন মমতা সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ডিএ (DA) বৃদ্ধির ঘোষণায় মাতোয়ারা, ঠিক তখনই সেই বাজেটকে ‘ভোটের আগে নাটক’ বলে উড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাজ্য সরকারের ভাতাকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে বড়সড় পাল্টা প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ৩০০০ টাকার চ্যালেঞ্জ: এদিন বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর পরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, "এই সরকার শুধু নাম বদলে নতুন মোড়কে পুরনো প্রকল্প চালাচ্ছে। আমাদের সরকার (বিজেপি) ক্ষমতায় এলে ১লা এপ্রিল থেকেই এর প্রভাব পড়বে এবং ১লা জুনের আগে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে।" তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই সরকার কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ, তাই মানুষকে ভাতাতেই সন্তুষ্ট রাখতে চাইছে।
ডিএ মামলা ও বাজেটের যোগসূত্র: বাজেট পেশের দিন সকালেই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ৩১শে মার্চের মধ্যে মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে। সেই রায়ের পর বাজেট বক্তৃতায় রাজ্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করে। শুভেন্দুর মতে, সুপ্রিম কোর্টের থাপ্পড় খেয়ে মুখ বাঁচাতে এই ৪ শতাংশের ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এতে কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা মিটবে না। তিনি বলেন, "আদালত বলেছে ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মেটাতে, আর সরকার বলছে ১ এপ্রিল থেকে যৎসামান্য ডিএ দেবে—এটা স্রেফ প্রতারণা।"
শুভেন্দুর কটাক্ষ: "চাকরি নেই, শুধু দান-খয়রাতি" বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, বেকার যুবকদের জন্য যে ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে নতুন কিছুই নয়। রাজ্যের কোষাগার যখন শূন্য, তখন এই ধরণের ঘোষণা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে, তাই শেষ বেলায় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন।"
সব মিলিয়ে, বাজেট পেশের দিনই রাজ্য বনাম কেন্দ্রের রাজনৈতিক তরজা এবং শুভেন্দু অধিকারীর ৩০০০ টাকার পাল্টা চ্যালেঞ্জ রাজ্যের ভোটমুখী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

