​‘যোগ্যরা চাকরি পাক, চোরেরা জেলে যাক’: ধর্মতলায় শুভেন্দুর হুঙ্কার, নিয়োগ জট কাটাতে বড় ঘোষণা বিজেপি নেতার!

NEWS INDIA বাংলা
0

 ধর্মতলায় বিজেপির বিশাল সমাবেশ: নিয়োগ দুর্নীতি ও বেকারত্ব ইস্যুতে সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী 


নিজস্বপ্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার। কলকাতার ধর্মতলার রাজপথ সাক্ষী থাকল এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশের। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (BJYM) ডাকে আয়োজিত "চাকরি চায় বাংলা" কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁদের প্রধান দাবি—অবিলম্বে রাজ্যে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমানে বাংলায় প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি শিক্ষিত যুবক বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছেন। এসএসসি (SSC) এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যোগ্য প্রার্থীরা বছরের পর বছর রাজপথে বসে আন্দোলন করছেন, কিন্তু সরকারের কোনো হেলদোল নেই। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, "কোনো অযোগ্য বা সাদা খাতা জমা দেওয়া প্রার্থী নয়, শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগই হবে আমাদের লক্ষ্য।"

নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রশাসনিক পদ ও বিধানসভার বিভিন্ন কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন বিরোধী দলনেতা। বিশেষ করে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক।

২০২১-এর নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ১৫০০ টাকার বেকার ভাতা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "নির্বাচন ফুরোলে সরকার সব ভুলে যায়।" ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে দেখে সরকার যেন আবার কোনো 'লুকোচুরি' বা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি না দেয়, সেই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "যোগ্যরা চাকরি পাক আর চোরেরা জেলে যাক।"

কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র সরকার বাংলার কর্মসংস্থানের জন্য প্রচুর বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার যদি জমি নীতি ও পরিকাঠামোয় সহযোগিতা না করে, তবে সেই উন্নয়ন থমকে থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তবে বিজেপি আবারও রাজভবন অভিযান করবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিরোধী দলনেতা আজ অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার নিয়োগের নাম করে আসলে "নির্বাচনী তহবিল" সংগ্রহ করতে চাইছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই দীর্ঘদিনের নিয়োগ জট কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!