"আমরা আপনার ভৃত্য নই": দিল্লির সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজে ইন্ডিয়া ডেস্ক: নয়াদিল্লির বুকে আজ এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শাণালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বকেয়া পাওনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক ইস্যুতে আজ সরব হন তিনি। বৈঠকের শুরুতেই তিনি দিল্লির সংবাদমাধ্যমকে কটাক্ষ করে বলেন, "বাংলার মাটিতে ঠিক কী ঘটছে, তা হয়তো আপনাদের সঠিক জানা নেই।" তাঁর সাথে এদিন এস SIR ভিকটিমরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল মূলত নির্বাচন কমিশন। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনকে ছয়টি চিঠি পাঠানো হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমার কেন্দ্রে ২ লক্ষের বেশি ভোটার। অথচ তথ্যের ভুল দেখিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।" এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে কমিশনকে ‘হত্যাকারী’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।
নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন এবং কবি জয় গোস্বামী সহ বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের শুনানিতে ডাকার ঘটনাকে ‘অযুক্তিক হেনস্থা’ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলেছেন এবং দুর্ব্যবহার করেছেন। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী টেবিল চাপড়ে বলেন, "চিৎকার করবেন না, আমরা আপনার ভৃত্য নই। মনে রাখবেন, আজ যে চেয়ারে আছেন, কাল তা নাও থাকতে পারে।"
অনুপ্রবেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগের পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সীমান্ত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে। আসাম ও ত্রিপুরাতেও বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে, সেখান দিয়েও লোক ঢুকছে। কিন্তু কেন্দ্র শুধুমাত্র বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।"
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "পশ্চিমবঙ্গে আমরা একাই লড়ি এবং একাই লড়ব।" কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের জল্পনা তিনি উড়িয়ে দেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, "প্রভাব তো পড়বেই, তবে আমরা লড়াই করব। আমাদের রণকৌশল কী হবে, তা সময়মতো জানানো হবে।" আসন সংখ্যা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, তিনি জ্যোতিষী না হলেও মনে করেন গতবারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে।

