নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:বাংলা সাহিত্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও বিবেকানন্দ গবেষক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, যিনি পাঠকসমাজে ‘শঙ্কর’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই জীবনাবসান হয় তাঁর।
শঙ্করের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
শঙ্করের লেখনী বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি। সদ্য স্বাধীন কলকাতার সাহেবপাড়া, শহরের অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও বেদনার যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে।
তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘চৌরঙ্গী’ বাংলা উপন্যাসের জগতে এক কালজয়ী সংযোজন। পাশাপাশি ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘জন অরণ্য’-র মতো অসামান্য রচনা তাঁকে এনে দিয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা ও সম্মান। তাঁর বহু রচনা চলচ্চিত্রায়িতও হয়েছে, যা তাঁর সাহিত্যিক প্রভাবের ব্যাপ্তিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
শঙ্করের সাহিত্যজীবনের সূচনা হয় ১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে। অল্প বয়সেই লেখা ‘কত অজানারে’ তাঁকে বিপুল পরিচিতি এনে দেয় এবং সেই সাফল্যই তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যপথের ভিত্তি গড়ে দেয়।
সহজ অথচ গভীর ভাষা, তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণশক্তি এবং জীবনের বাস্তবতার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ—এই সব মিলিয়ে তাঁর লেখনী এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের পাঠকের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই, তবে তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
তাঁর বাসভবনে ইতিমধ্যেই সাহিত্য জগতের বিশিষ্টজন, শিল্পী এবং অনুরাগীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
এক অনন্য প্রতিভাধর লেখককে হারিয়ে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি সমগ্র বাঙালি সমাজ আজ গভীর শোকাহত।

