প্রাণনাশের হুমকি পেলেন অভিনেতা রণবীর সিং, ১০ কোটির দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য বলিউডে
নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: বলিউডে আতঙ্কের আবহ আরও ঘনীভূত। কিছুদিন আগেই জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেঠির বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল ইন্ডাস্ট্রি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রাণনাশের হুমকি পেলেন অভিনেতা রণবীর সিং।
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস নোটের মাধ্যমে অভিনেতার কাছে হুমকি বার্তা পৌঁছয় বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, ওই বার্তায় অভিনেতার কাছে ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, বার্তাপ্রেরক নিজেকে কুখ্যাত “লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং”-এর সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছে।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে মুম্বাই পুলিশ। দ্রুত রণবীর সিং ও তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী দীপিকা পাদুকোন-এর ওরলির আবাসনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তাঁদের বাসভবনের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র পুলিশ ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী। পাশাপাশি স্পেশাল ব্রাঞ্চের আধিকারিকরাও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও সাইবার সেল যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ভয়েস নোটের উৎস, নম্বরের ট্র্যাকিং, আইপি ডিটেইলস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, সম্প্রতি পরিচালক রোহিত শেঠির বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গে এই হুমকির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই দুই ঘটনার সরাসরি সংযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
অন্যদিকে, রণবীর সিং বর্তমানে তাঁর আসন্ন ছবি “ধুরান্ধার ২”-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে এই হুমকির ঘটনায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। শুটিং লোকেশনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ওরলির ওই আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, সোসাইটির পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সশস্ত্র নিরাপত্তা মোতায়েন হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেপ্তার হয়নি। তদন্ত চলছে, এবং পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
বলিউডে একের পর এক নিরাপত্তাজনিত হুমকি সামনে আসায় ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বড় মাপের তারকাদের লক্ষ্য করে এই ধরনের হুমকি কি নতুন প্রবণতা? নাকি এটি শুধুই ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল?—উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।

