ভয়ের তীব্রতায় অসুস্থ দর্শক, হলের বাইরে অ্যাম্বুল্যান্স রাখত প্রেক্ষাগৃহ
ভয়, রক্ত, রহস্যময় অন্ধকার হাভেলি আর কাঁপিয়ে দেওয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক — এই সবকিছুর মেলবন্ধনে হিন্দি হররের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছিলেন রামসে ব্রাদার্স।
এর আগেও বলিউডে ‘মহল’, ‘বিশ সাল বাদ’, ‘গুমনাম’-এর মতো ছবির মাধ্যমে ভৌতিক গল্প দর্শকদের সামনে এসেছে। তবে সেই ছবিগুলিতে যেখানে রহস্য ও সাসপেন্সই মুখ্য ছিল, রামসে ব্রাদার্স হিন্দি হররকে এক নতুন ভিজ্যুয়াল ভাষা দিয়েছিলেন। তাদের ছবিতে ভয় যেন দর্শককে সরাসরি গ্রাস করত।
১৯৭৮ সালে তুলসী রামসে ও শ্যাম রামসে নির্মাণ করেন ‘দরওয়াজা’। ছবির কাহিনিতে দেখা যায়, এক বিত্তবান পরিবারের হাভেলির দরজার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ঙ্কর রহস্য। দরজা খুলতেই মুক্তি পায় এক বিভীষিকাময় দানব, শুরু হয় নির্বিচারে হত্যালীলা। চিৎকার, রক্তাক্ত দৃশ্য, ঝড়ো আবহ এবং অন্ধকার করিডর — সব মিলিয়ে ছবিটি হয়ে ওঠে এক দুঃস্বপ্ন।
তখনকার দিনে আধুনিক CGI বা উন্নত প্রস্থেটিক মেকআপ ভারতীয় সিনেমার নাগালের বাইরে ছিল। তবুও দানবের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নির্মাতারা লন্ডন থেকে নিয়ে আসেন বিশিষ্ট মেকআপ শিল্পী ক্রিস্টোফার টাকারকে।
যদিও এই সিদ্ধান্তের পিছনে বড় আর্থিক ঝুঁকি ছিল। তাঁর পারিশ্রমিক ছিল অত্যন্ত বেশি, যা রামসে ব্রাদার্সের সীমিত বাজেটের পক্ষে বহন করা কঠিন ছিল। তবুও বাস্তবতার অনুভূতি তৈরি করতে সেই ব্যয় বহন করেন নির্মাতারা।
ছবির মুক্তির পরেই প্রমাণ হয়ে যায়, সেই খরচ বৃথা যায়নি।
আজ প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগে সেই সময়ের ছবিগুলি হয়তো সরল বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সীমিত বাজেটে কীভাবে দর্শকের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করা যায়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে রামসে ব্রাদার্সের সেই যুগ।

