নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক :বৃন্দাবনের গোবর্ধন অঞ্চলে অবস্থিত শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ড যুগ যুগ ধরে ভক্তদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই আধ্যাত্মিক আবহ এবার ধরা দিল গৌড়ভূম নবদ্বীপেও।
নবদ্বীপের সুদর্শন মন্দিরে বৃন্দাবনের আদলে নির্মিত হয়েছে শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ডের প্রতিরূপ। মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বৃন্দাবনের মূল শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ড থেকে পবিত্র জল এনে এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে ভক্তরা নবদ্বীপেই সেই পবিত্রতার অনুভূতি লাভ করতে পারেন।
পুরাণ মতে, অসুর আরিষ্ঠাসুর বধের পর শ্রীকৃষ্ণ গোহত্যার পাপ থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে পবিত্র জলে স্নান করেন এবং তাঁর বাঁশির স্পর্শে সৃষ্টি হয় শ্যামকুন্ড। পরে রাধারাণী নিজের কঙ্গন দিয়ে আর একটি কুন্ড সৃষ্টি করেন, যা রাধাকুন্ড নামে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, শ্যামকুন্ড কৃষ্ণের শ্যামবর্ণের প্রতীক এবং রাধাকুন্ড রাধার পবিত্রতার নিদর্শন।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতে, এই দুই কুন্ডে স্নান করলে ভক্তরা বিশেষ প্রেমভক্তি লাভ করেন। ফলে যাঁদের পক্ষে বৃন্দাবনে যাওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের জন্য নবদ্বীপে এই উদ্যোগ নতুন আধ্যাত্মিক সুযোগ এনে দিয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ভগবত কিশোর গোস্বামী জানান, এই রাধাসুদর্শন মন্দির স্বাধীনতার আগেই তাঁর ঠাকুরদা ভগবত রসরঞ্জন গোস্বামীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজসেবামূলক কাজের প্রসার ঘটে। বর্তমানে সুদর্শন সংঘ নানা সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
শ্যামকুন্ড ও রাধাকুন্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যথাযথ ধর্মীয় বিধি মেনে। প্রায় ১৫০ জন সাধু, ২৭ জন প্রধান সাধু ও ১২ জন ব্রাহ্মণের উপস্থিতিতে এই প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন তীর্থস্থানের জলও এতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মন্দির প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ধর্মীয় পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

